এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বেশ আশা জাগানিয়া, সেই সাথে ভারসাম্যপূর্ণও। নামেভারে কিংবা পারফরম্যান্সের বিচারে তাসকিন-মুস্তাফিজরা দেখাচ্ছেন সম্ভাবনার আলো। তবে কেমন হতে পারে এবারের পেস ইউনিট সেটআপ, কাদের সামনে রেখে সাজানো হবে পরিকল্পনা?
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে দুই রকম সেটআপ করা সম্ভব এশিয়া কাপে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার অথবা জেনুইন পেসারদের নিয়ে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে পেস আক্রমণের চিত্র নির্ভর করবে কন্ডিশনের উপর।
জেনুইন পেসারদের তালিকায় থাকবেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে বোলিং অলরাউন্ডারের ভূমিকায় তানজিম হাসান সাকিব এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ সাধারণত তিন পেসার তত্ত্বে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজ এবং তাসকিনের জায়গাটা অনেকেই হয়তো পাকাপোক্ত হিসেবে ধরতে পারেন। বাকি তিন পেসার – শরিফুল, তানজিম সাকিব এবং সাইফউদ্দিনের মধ্যে কাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?
যদি পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো যায়, এবছরে শরিফুল ইসলাম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ১০ ম্যাচে ৭.৮৬ ইকোনমিতে শিকার করেছেন ১২ উইকেট। তানজিম হাসান সাকিবও ১২ ম্যাচে সমান সংখ্যক উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। যদিও ৮.৬৪ ইকোনমি রেটটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।
তবে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ১২টি, ইকোনমি রেট ৮.২৭। দলের আরেক সেরা বোলার মুস্তাফিজ সাত ম্যাচ খেলে নিজের নামের পাশে ১০ উইকেট। তাঁর ৪.১৮ ইকোনমি রেট সবার সেরা।

আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খুব বেশি সুযোগ অবশ্য পাননি, মাত্র চার ম্যাচে সাতের উপর ইকোনমিতে নিয়েছেন চার উইকেট। সব কিছু বিবেচনায় বোলাররা সবাই বেশ ফর্মে আছেন।
তবে সব মিলিয়ে বলা যায় বোলাররা সবাই বেশ ছন্দে রয়েছেন। এক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টকে পড়তে হতে পারে মধুর সমস্যায়। তাই তো বেশ হিসাব-নিকাশ করেই পেস ইউনিট সাজাতে হবে।
বাংলাদেশ যদি ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে চায় সেক্ষেত্রে বোলিং অলরাউন্ডারদের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ সাইফউদ্দিন অথবা সাকিবের একজন থাকবেনই। আর যদি পিউর বোলিং পেস আক্রমণের বিষয় আসে তবে তাসকিন-মুস্তাফিজ-শরিফুল এই তিন ত্রয়ীকে নিয়েই হবে একাদশ।

আরও এক ফরমেশনে যেতে পারে ম্যানেজমেন্ট, জেনুইন বোলার এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডারদের মিশেলে সেটআপ করা যেতে পারে। দলের একজন প্রাইম বোলারকে রেখে তানজিম সাকিব এবং সাইফউদ্দিন কম্বিনেশন হতে পারে পরিস্থিতি বিবেচনায়। এক্ষেত্রে হয় মুস্তাফিজ অথবা তাসকিনকে নিয়েই মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এক কথায় লাক্সারি এনে দিচ্ছে। অনেকগুলো অপশন হাতে থাকছে দলের। যার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারলে স্বপ্ন পূরণের এ যাত্রায় কিছুটা হলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকবে।











