মেসিকে ছাড়া ছন্নছাড়া আর্জেন্টিনা!

লিওনেল মেসির অবর্তমানে দলের হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যে হবে স্কালোনিকে। রোজারিওর ওই জাদুকরের উপস্থিতিই তো যথেষ্ট ছিল এতদিন অবধি। 

দু’টো রেডকার্ড, পাঁচটি হলুদ কার্ড ও একটি পেনাল্টি, ঠেকাতে ব্যর্থ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মাঠের ভেতরে বেশ ক’বার সৃষ্টি হয়েছে জটলা, হয়েছে বাকবিতণ্ডা- উত্তেজনার ম্যাচে আর্জেন্টিনার পরাজয়। এটাই কি তবে লিওনেল মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনা দলের পূর্বাভাস?

ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে হেরেছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

স্বাভাবিকভাবেই লিওনেল মেসিকে অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলানোর বিশেষ কোন কারণ নেই। আলবিসেলেস্তা বস লিওনেল স্কালোনি তাই নিজের হাতে থাকা বিকল্পগুলোকে বাজিয়ে দেখতে চাইলেন। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেল ঘটানোর একটা প্রয়াশ পরিলক্ষিত হয়েছে ইকুয়েডরের বিপক্ষে।

কিন্তু মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনার চিত্র অংকন খুব একটা দৃষ্টিনন্দন হয়নি শেষ অবধি। নানন্দিক ফুটবলের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দুই দল যেন মেতে উঠল জব্বারের বলি খেলায়। কে কাকে মাঠের ধুলোতে লুটোপুটি খাওয়াবে- সে মিশনেই যেন নেমেছিল দুই দল। মোট ২৩ বার দায়িত্বরত রেফারিকে খেলা থামাতে হয়েছে দুই দলের করা ফাউলের কারণে।

দুই দলের এই ফাউলের মহোৎসবের বলি শেষ অবধি হতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকেই। দলের অন্যতম আস্থাভাজন নিকোলাস ওতামেন্দি ম্যাচের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রের্ড কার্ড দেখেন। ম্যাচের ৩১ মিনিটের মাথায় দশ জনের দলে পরিণত হয় তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই দলকে কোণঠাসা করার সুযোগ হাত ছাড়া করেনি এনার ভ্যালেন্সিয়ার সতীর্থরা।

তাতে করে অবশেষে ফলাফল আসে ইকুয়েডরের পক্ষে। নিকোলাস তাগলিয়াফিগোর ডি-বক্সের ভেতরের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় ইকুয়েডর। বেশ লম্বা সময় ভার পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে অবশ্য ভুল করেননি এনার ভ্যালেন্সিয়া। পেনাল্টি শট ঠেকানোর ওস্তাদ এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে উল্টো দিকে ঠেলে দিয়ে, ডান পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এনার ভ্যালেন্সিয়া।

প্রথমার্ধের ইনজুরির টাইমের সেই একটি গোলই জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। তবে শেষ বাশি বাজার আগে সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টাই চালিয়েছে আলবিসেলেস্তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোয়েসিস কাইসেদো রের্ড কার্ড দেখলে ইকুয়েডরও পরিণত হয় দশ জনের দলে। কিন্তু আর্জেন্টিনার পারেনি সেই দলের উপর চড়াও হয়েও গোল আদায় করতে।

এই পরাজয়ে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হচ্ছে না আর্জেন্টিনার। তবে লিওনেল স্কালোনি হয়ত নিজের নোটবুকে টুকে নিয়েছেন সবকিছু। লিওনেল মেসির অবর্তমানে দলের হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যে তাকেই হবে। রোজারিওর ওই জাদুকরের উপস্থিতিই তো যথেষ্ট ছিল এতদিন অবধি।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link