এক আনন্দ অশ্রুতে ভেসে গেল যেন ব্রাজিলের পরাজয়ের গ্লানি। কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু বলিভিয়ার চোখেমুখে অবিশ্বাস। সাইড বেঞ্চের পাশে রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডার, তবে বলিভিয়ার ফুসফুস জুড়েই তো স্রেফ বিশ্বাসের বাতাস। আর তাতেই বিশ্বকাপ খেলার আরেকটু কাছে পৌঁছে গেল বলিভিয়া। সেই ১৯৯৪ সালের পর আবার জেগেছে আশার আলো।
বলিভিয়া দাঁড়িয়ে ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের দ্বারপ্রান্তে। তাদের সাথেই অবস্থান ছিল ভেনিজুয়েলারও। বলিভিয়ার স্বপ্নকে মাটি চাপা দিতে ব্রাজিলের স্রেফ ড্র-ই ছিল যথেষ্ট। ভেনিজুয়েলা তাতে করে পেয়ে যেত প্লে-অফের টিকিট। কিন্তু অবিশ্বাসের জন্ম দিয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ নিঙড়ে দিয়ে বলিভিয়া প্লে-অফের টিকিটটি নিজেদের করে নিয়েছে।
২০০৯ সালের পর প্রথমবার ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছে বলিভিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধ প্রায় শেষ হয় হয় অবস্থা। এমন সময়ে ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। ভারের সহয়তায় রেফারি নিশ্চিত হন, গুইমারেসের চ্যালেঞ্জ ছিল আইন বহির্ভূত। অগ্যতা পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।

বলিভিয়ার প্রতিটি খেলোয়াড়ের চোখে-মুখে তখন বিস্ময়ের উজ্জ্বলতা। এই তো সুযোগ, এটাই তো সুযোগ। দলের সেরা খেলোয়াড় মিগুয়েল তারসেরসকে দেওয়া হল পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব। সেলেসাও গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ঠিক দিকে লাফ দিয়েও ঠেকাতে ব্যর্থ। যে শটে থাকা কোটি মানুষের স্বপ্ন জড়িয়ে, যে শটে হৃদয়ের গহীনের আবেগ থাকে মিশ্রিত- সে শট ঠেকাবে সে সাধ্য আছে কি কারো!
ওই একটি গোল আর পরিশোধ করতে দেয়নি বলিভিয়া। চিলির বিপক্ষে কার্লো আনচেলত্তির সেই ফ্লুইড ব্রাজিল এদিন ছিল দারুণভাবে অনুপস্থিত। তিনি অবশ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। তার বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত বলেই একাদশে বেশ বদল এন মাঠে নেমেছিলেন। তাতে করে রসায়নের ঘাটতি ও বলিভিয়ার উচ্চতা- দুইয়ের মিশেলে ব্রাজিল ছিল বেশ অগোছালো।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ম্যাচে ফিরতে চেয়েছেন। কিন্তু বলিভিয়ার স্বপ্নে বিভোর রক্ষণ দূর্গের সামনে হার মেনেছে আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা। শেষ বাশি বাজার সাথে সাথে ধরণীর বুকে একটু ঠাই চাইলেন বলিভিয়ার খেলোয়াড়রা। কারো কারো চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। বহুকাল বাদে যে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ তাদের দিচ্ছে ডাক।












