এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচের আগেই বাংলাদেশকে একটা জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শরিফুল ইসলাম নাকি তানজিম হাসান সাকিব- কে পাবেন প্রাধান্য। একজন নতুন বলের উইকেট শিকারি, আরেকজন ম্যাচ উইনার। এখন বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, তারা ঠিক কাকে একাদশে চান।
প্রথমত নতুন বলে সুইং আদায় করতে ভীষণ পটু শরিফুল ইসলাম। চলতি বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে যৌথভাবে সর্বাধিক উইকেটের মালিক তিনি। ১২টি উইকেট নিয়েছেন ৯ ইনিংসে বল করে। এই সময়ে তার ইকোনমি রেট ছিল ৭.৮৬। এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট ভাল বটে। কিন্তু পরিসংখ্যানের মাঝে থেকে যায় সূক্ষ্ম ফাঁকি।
শরিফুল নতুন বলে ইনিংসের শুরুতে যতটা অপ্রতিরোধ্য, ঠিক ততটাই স্লগওভারে তিনি অকার্যকর। শরিফুলের শিকার করা ১২ উইকেটের মধ্যে ৭টি উইকেট তিনি বাগিয়েছেন ইনিংসের শুরুর দিকে, এক থেকে চার ওভারের মধ্যে। অর্থাৎ প্রথম পাওয়ার প্লে-তে। এটাই বরং প্রমাণ করে নতুন বলে তিনি কতটা কার্যকর উইকেট শিকারি।

কিন্তু স্লগ ওভারে তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে ভরসা করতে দেখা যায়নি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে। চলতি বছরে ১৬-২০ ওভারের মধ্যে স্রেফ আট ওভার বল করেছেন শরিফুল ইসলাম। এর মধ্যে একটি ইনিংসে স্রেফ তিনি ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে দুইটি ওভার করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি শেষ ওভারে খরচা করেন ২২ রান।
বলে রাখা ভাল সেদিন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল সর্বসাকুল্যে ১৩২ রান। মূলত শরিফুলের বোলিং লেন্থের কারণেই ডেথ ওভারে তিনি ততটাও কার্যকর নন। চ্যানেল বোলিংয়ে মুভমেন্ট আদায় করেন বা-হাতি এই পেসার। তাছাড়া গুড লেন্থের আশেপাশে বোলিং করেন তিনি। এছাড়াও ডেথ ওভারের গো টু ইয়োর্কারে খুব একটা সিদ্ধহস্ত নন শরিফুল।
সুতরাং শরিফুলকে দিয়ে যে ডেথ বোলিং সম্ভব নয়- সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে তানজিম হাসান সাকিবের এই বছরটি এখন পর্যন্ত খুব একটা ভাল কাটেনি টি-টোয়েন্টিতে। প্রায় ৮.৬৪ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন তিনি। যদিও তার ঝুলিতেও আছে ১২টি উইকেট। তিনি খরুচে বোলার বটে। কিন্তু অদ্ভুতরকমভাবে তিনি ম্যাচ উইনারও।

নিজের দিনে তানজিম সাকিব যেকোন ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। প্রতিদিন হয়ত তিনি দূর্দান্ত বোলিং করবেন না। কিন্তু ছন্দ থাকা সাকিব ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিতে জানেন। তার কার্যকারিতা হয়ত সংখ্যায় বর্ণনা করা যাবে না ঠিকঠাক। কিন্তু ক্রুশাল মুহূর্তে তিনি দলের চাহিদা পূরণের সামর্থ্য রাখেন। তাছাড়া লেন্থের বৈচিত্র্য তাকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রাখে ডেথ বোলিংয়ের ক্ষেত্রে।
সাকিবের সাথে শরিফুলের তুলনা নয়, বরং চাহিদা মাফিক তাদের ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলে দুই প্রিমিয়াম পেসার প্রতিটা ম্যাচের একাদশেই নিশ্চিত। তাসকিন আহমেদ নতুন বলের বোলার, মুস্তাফিজুর রহমান ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট। এই দুইজনের সাথে তৃতীয় পেসার কে হবেন- সে বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের স্পষ্ট ধারণা থাকা যথেষ্ট প্রয়োজন।
শরিফুলকে একাদশে রাখতে হলে তার কাছ থেকে নতুন বলের সর্বোচ্চ সার্ভিস নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তার উপরে ডেথ ওভারে বোলিংয়ের দায়িত্বে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তখন মুস্তাফিজের সাথে ডেথ ওভারের কম্বিনেশন নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা সাঁজাতে হবে বাংলাদেশকে। নতুবা হিতে-বিপরীত হতে পারে ফলাফল। অন্যদিকে সাকিবের মোমেন্টাম ঘোরানোর সক্ষমতা বিচারে তাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।












