‘নওয়াজ, কোনো সমস্যা নেই। তুই আমার ম্যাচ উইনার। যা-ই হোক না কেন, আমার বিশ্বাস সবসময় তোর ওপরই থাকবে।’- ২০২২ সালের অক্টোবর মাস। ভারত–পাকিস্তান বিশ্বকাপের মহারণের পর পাকিস্তানের ড্রেসিং রুমে দাঁড়িয়ে বাবর আজম বলেছিলেন এই কথাগুলো।
সে সময় মোহাম্মদ নওয়াজ ভীষণ হতাশ, খারাপ ফর্মে জর্জরিত। চার ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট, গড়পড়তা ইকোনমি, মোটে ৭.৪৪। পারফরম্যান্স একেবারেই আশানুরূপ নয়। তবু বাবর তাকে বলেছিলেন – তুই ম্যাচ উইনার। আর সেই ভবিষ্যদ্বাণী যেন সত্যি হতে শুরু করেছে এখন। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিচয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্রায়ন চাইবে পাকিস্তান দল। শেষ ওভারের সেই দু:স্বপ্ন ভুলে নওয়াজ তৈরি নিজের পুনর্জন্মের গল্প লিখতে।
সময়ের স্রোত ঘুরে ২০২৫-এ এসে নওয়াজ যেন নতুন করে জন্ম নিলেন। সদ্য শেষ হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনি গড়ে তুললেন এক অনন্য ইতিহাস। পাকিস্তানের মাত্র ১৪২ রানের টার্গেটকে পাহাড় বানিয়ে দিলেন তিনি নিজের বোলিং ম্যাজিক দিয়ে।

৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে নিলেন ৫ উইকেট। একটি মেইডেন ওভার, আর প্রতিটি বলের সাথে সাথে আফগান ব্যাটসম্যানদের বুক কেঁপে ওঠা। ৬৬ রানে গুটিয়ে গেল আফগানিস্তান। ম্যাচ জয় তো বটেই, পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকল নওয়াজের এই রাত।
বাবরের আস্থা যে বৃথা যায়নি, সেটাই প্রমাণ করলেন নওয়াজ। সেই ড্রেসিং রুমের ক্লান্ত, হতাশ তরুণ বোলার আজ দাঁড়িয়ে আছেন পাকিস্তানের আসল ম্যাচ উইনার হয়ে।
তবে ব্যাঙ্গাত্মক হলেও সত্য, যে বিশ্বকাপে বাবর এই কথাগুলো বলেছিলেন, সেখানেই নিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন তিনি। ৭ ইনিংসে মাত্র ১২৪ রান, গড় ১৭.৭১ আর স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯৩। উল্লেখযোগ্য ইনিংস বলতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার ৫৩ রানের ঝলকই ভরসা জুগিয়েছিল পাকিস্তানকে।

সেই বাবর আজম আর নেই। টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে আর বিবেচনা করে না পাকিস্তান। তবে, মোহাম্মদ নাওয়াজ আছেন, আছেন তিনি বিরাট প্রতাপের সাথেই। ক্রিকেটের গল্প এভাবেই ঘোরে, এভাবেই ফিরে আসে। আজ সেই ‘তুই ম্যাচ উইনার’— এটা এমন একটি বাক্য, যা হয়ে উঠেছে মোহাম্মদ নওয়াজের পুনর্জন্মের প্রতীক। বাবরের আস্থা আর নওয়াজের প্রত্যাবর্তন মিলেমিশে যেন নতুন এক অধ্যায় লিখছে পাকিস্তানি ক্রিকেটে।
মোহাম্মদ নাওয়াজ এশিয়া কাপেও নিজের শুরুটা করেছেন দাপটের সাথে। ছোট্ট একটা ক্যামিও নকের পর বল হাতে এক উইকেট নেন ওমানের বিপক্ষে। সামনে অপেক্ষায় এবার ভারত। নওয়াজ কি এবার ভারতকে সেই আঘাতটা ফিরিয়ে দিতে পারবেন?










