রিশাদ হোসেন কি সত্যিই ফুরিয়ে গেলেন? বল হাতে কার্যকরী কিছু পাওয়া যাচ্ছে না, কালেভদ্রে নিজের চিরচেনা ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। সেই সাথে অতিরিক্ত রান দেওয়ার প্রবণতাটা চোখে পড়ছে একটু বেশি। তবে কি আরও এক প্রতিভার অপমৃত্যু হতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটে?
বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ স্পিনারের অভাবটা বেশ পুরনো। অনেকে সম্ভাবনা দেখালেও, কেউ টিকে থাকতে পারেননি ভরসার নাম হয়ে। সেক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন। অভিষেকের অল্প দিনের মধ্যে নিজের প্রতিভার সবটুকু প্রদর্শনী দেখিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি হারিয়ে যেতে আসেননি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই হারিয়ে যাওয়ার ভয়টা আবারও জেকে বসেছে তাঁকে নিয়ে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রিশাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা ৪৪ ম্যাচের। ৮.১৪ ইকোনমি আর ২৩.২ গড়ে ৫০ উইকেটের মালিক এখন তিনি। খুব একটা খারাপ বলা না গেলেও তাঁর চলমান ফর্মটা আশাহত করছে সবাইকে।

গত বছর ২৪ ম্যাচ খেলে শিকার করেছিলেন ৩৫ উইকেট। ১৯ গড়ে সঙ্গে ইকোনমি ছিল ৮। সে সময় উইকেট টেকার হিসেবে বেশ নজর কাড়েন তিনি। শুধু বল নয়, ব্যাট হাতেও শেষের দিকে ঝড়ো কিছু ইনিংস খেলে বিশ্ব দরবারে নিজেকে চেনান। যার ফলস্বরূপ ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও সুযোগ আসে তাঁর।
বিগ ব্যাশে এনওসি না পেলেও এবছরে পাকিস্তান সুপার লিগে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করেন। প্রত্যাশাটাও আরও বেশি বাড়তে শুরু করে তাঁকে নিয়ে। তবে এই প্রত্যাশা চাপ হয়ে তাঁর কাঁধে চাপলো না তো!
দেশের জার্সিতে এ বছরে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ। তবে উইকেট সংখ্যাটা মাত্র ১২। ৪৪.২ ওভার বল করে রান দিয়েছেন ৩৯২। ইকোনমি রেটটা তাই দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯-এর কাছাকাছি। আর বোলিং গড় প্রায় ৩৩।

লেগ স্পিনাররা একটু খরুচে হবেন সেটাই স্বাভাবিক, তবে উইকেটও তুলবেন। রিশাদের বেলায় কোনটায় ফলছে না। বল হাতে বিশেষ কিছু করা তো দূরে থাক, নিজের স্বাভাবিক খেলাটায় যেন ভুলতে বসেছেন। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ওভারে বল করেই দিয়েছেন ১৮ রান। বিপাকে ফেলার বদলে ব্যাটারের কাজটা কার্যত সহজ করে দিয়েছেন। আর এরপরই সমালোচনার বৈঠকে নাম ওঠে তাঁর।
এই রিশাদ অনেকটা অচেনা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে যে পথে হেঁটেছিলেন সেটা আজ খুঁজেই পাচ্ছেন না তিনি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরও এক প্রতিভার জলাঞ্জলি ঘটবে দেশের ক্রিকেটে। এখন প্রশ্নটা, রিশাদ কি পারবেন ফিরতে?











