সালমানের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, বাবর বলির পাঠা

যে ভাবনা থেকই দল থেকে বাদ দেওয়া হয় বাবর আজমকে। তবে কি পাকিস্তানের অধিনায়ক আক্রমণাত্মক ইন্টেন্টের বাইরে?

পাকিস্তান হবে আক্রমণাত্মক। এই ভাবনা থেকেই দল থেকে বাদ দেওয়া হয় বাবর আজমকে। কিন্তু পাকিস্তানের নতুন অধিনায়ক তো ১০০ স্ট্রাইকরেট তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তবে কি পাকিস্তানের অধিনায়ক আক্রমণাত্মক ইন্টেন্টের বাইরে?

বেশ ঘটা করে বলা হল, পাকিস্তান নতুন ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলবে। সেখানে আগ্রাসন পাবে প্রাধান্য। সে কারণে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানের মত খেলোয়াড়দের ছেটে ফেলা হয়েছে। নতুন অধিনায়কের ছত্রছায়ায় পাকিস্তান দাপট দেখাবে ব্যাট হাতে। কিন্তু হচ্ছে উলটোটা।

ত্রি-দেশীয় সিরিজ থেকে শুরু, এশিয়া কাপের তিন ম্যাচেও সালমান আলী আঘা রানই করতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, তার স্ট্রাইকরেটে ঘুরপাক খাচ্ছে একশর নিচে। অথচ বাবর আজম নিজের খেলা শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী ‘ইন্টেন্ট’ প্রদর্শন করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বসে প্রায় ১৫০ স্ট্রাইকরেটের ব্যাট চালানোর চেষ্টা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রতি ম্যাচে তিনি সফলতার দেখা পাবেন না। রান করতে পারবেন না। তব হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮ বলে ৪১ ও সেঞ্চুরিয়নে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২০ বলে ৩১ রানের ইনিংসগুলো বাবরের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু তার উপর আর ভরসা করতে পারল না পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট।

তারা সালমান আলী আঘার হাতে তুলে দিলেন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। শারজাহতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৬ বলে ৫৩ রান করেন সালমান। এরপর আর ৩০ রানের গণ্ডি পেরুতে পারেননি তিনি। আট ম্যাচ ধরে থেমেছেন ২০ রানের আগে। এর থেকে দৃষ্টিকটু তার স্ট্রাইকরেট। ওই ফিফটির পর তিনি স্রেফ ৮২.২৯ স্ট্রাইকরেটে রান তুলতে পেরেছেন।

এর মধ্যে এশিয়া কাপের মত গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্টও রয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দী ভারতের বিপক্ষে ১২ বলে ৩ রান করেছিলেন তিনি। এরপর বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৭ বলে ২০ রানের অকার্যকর ইনিংস খেললেন তিনি। যে দু’টো ইনিংসের আক্রমণ আর আগ্রাসন রীতিমত বিলাসিতা।

অথচ তিনিই ইতিবাচক ইন্টেন্ট, আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও আগ্রাসনের বুলি আওড়ান প্রতিনিয়ত। বাবর-রিজওয়ান কেন দলে নেই- এমন প্রশ্নে দলের সবার আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রসঙ্গ তুলেছেন বারংবার। কিন্তু সেসব যেন তার নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি যেন সবকিছুর উর্ধ্বে। ডাবল স্টান্ডার্ড জীবন-যাপন করছেন পাকিস্তানের নয়া অধিনায়ক।

 

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link