দুবাইয়ে ক্যাচ মিসের মহড়া, দায়ী ফ্লাডলাইট!

দুই ম্যাচে মোট নয়টি ক্যাচ ছুটেছে। বিষয়টি দুশ্চিন্তা জাগানিয়া। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচগুলো তাই তুলছে প্রশ্ন।

দুই ম্যাচে মোট নয়টি ক্যাচ ছুটেছে। বিষয়টি দুশ্চিন্তা জাগানিয়া। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচগুলো তাই তুলছে প্রশ্ন। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটগুলোর দিকে উঠছে আঙুল। তবে কি সব দোষ গোলাকৃতির সেই ফ্লাডলাইট গুলোর?

সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা নিশ্চিত তিনটি ক্যাচ ছেড়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান তো একটি ক্যাচ লুফে নেওয়ার চেষ্টাও করেননি। তাকে দেখে মনে হয়েছে তিনি দ্বিধায় ছিলেন।

দ্বিতীয় ম্যাচে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়টি ক্যাচ মিসে। বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ফিল্ডারদের একটা সুখ্যাতি রয়েছে। তবে অভিষেক শর্মা, কুলদ্বীপ যাদবরা পাকিস্তানের চারটি ক্যাচ ছেড়েছেন। ভ্রু কুচকে যাওয়ার মত অবস্থা। এমনকি ভারতের দুইটি ক্যাচও ছুটেছে পাকিস্তানের ফিল্ডারদের হাত থেকে।

ঠিক এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে দুবাইয়ের ফ্লাডলাইট নিয়ে। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটগুলো সচারচর ক্রিকেট মাঠের মত নয়। বৃহদাকৃতির পিলারের উপরে দাঁড়িয়ে নেই ফ্লাডলাইট। তার পরিবর্তে স্টেডিয়াম ঘিরে থাকা সুউচ্চ ছাউনিতে রয়েছে ফ্লাডলাইটের অবস্থান।

এতে করে ফিল্ডারদের দ্বিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সুদূর গগনে ওঠা বলকে ঠিকঠাক অনুসরণ করতে পারে না। মাঝে মধ্যে ওই আলোর ভেতর মিলিয়ে যায় সফেদ রঙা বলটি। সে কারণে ফিল্ডারদের অসুবিধা হচ্ছে বটে। যেহেতু রাতের খেলায় পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন হয়, তাই পুরো স্টেডিয়াম জুড়েই রয়েছে পাওয়ারফুল ফ্লাডলাইটের উপস্থিতি। তাই আড়াআড়ি ভাবে আসা বলগুলোতে ক্যাচ লুফে নেওয়া কষ্টাসাধ্য।

কারণ যখনই ফিল্ডাররা ক্যাচ নেওয়ার জন্যে আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন, তাদের চোখে সরাসরি শক্তিশালী আলোকরশ্মি প্রবেশ করে। এতে করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি খানিকক্ষণের জন্য আবছা হয়ে যেতে পারে। আর খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই তেমনটি ঘটছে। এ কারণে তারা বলের গতিপথ ঠিকঠাকভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাতে করে ক্যাচ মিস হচ্ছে প্রচুর।

‘ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচ মিস’। কিন্তু দুবাইতে হচ্ছে ঠিক তেমনটাই। তাইতো প্রশ্ন জাগে কেন দুবাইয়ের ফ্লাইডলাইটগুলোর জন্যে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বাংলাদেশ কিংবা ভারত দিনশেষে হয়ত গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু কোন এক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্যায়ে একটি ক্যাচই তো বদলে দিতে পারে সমস্ত দৃশ্যপট। তখন খেলোয়াড়দের এই প্রতিবন্ধকতার কারণে ক্যাচ ফসকে গেলে তার দায়ভার কার?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link