আকাশের দিকে আয়না ঘোরাল বাংলাদেশ!

বাংলাদেশকে আয়নায় মুখ দেখার কথা বলেছিলেন আকাশ চোপড়া। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার সাথে হারের পর এমন কটাক্ষ তিনি ছুড়ে দিয়েছিলেন লিটনদের জন্য। তবে সেই বাংলাদেশই যখন দর্পণটা ঘুরিয়ে দিল, চোপড়া বোধহয় নিজের মুখটা দেখে কিছুটা লজ্জা পেলেন।

বাংলাদেশকে আয়নায় মুখ দেখার কথা বলেছিলেন আকাশ চোপড়া। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার সাথে হারের পর এমন কটাক্ষ তিনি ছুড়ে দিয়েছিলেন লিটনদের জন্য। তবে সেই বাংলাদেশই যখন দর্পণটা ঘুরিয়ে দিল, চোপড়া বোধহয় নিজের মুখটা দেখে কিছুটা লজ্জা পেলেন।

এশিয়া কাপ শুরুর আগে অনেকে অনেক কথাই বলেছেন বাংলাদেশকে নিয়ে। তবে আকাশ চোপড়ার কথার তীব্রতা বোধকরি একটু বেশিই ছিল। ক্রিকেট নিয়ে আলাপচারিতায় বাংলাদেশকে বারংবার হেয়-প্রতিপন্ন করেছেন। এমনকি ভবিষ্যদ্বাণীতে বলেছিলেন, বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচই জিতবে, তাও আবার হংকংয়ের বিপক্ষে। আফগানিস্তান কিংবা লঙ্কানদের বিপক্ষে রীতিমতো দাঁড়াতেই পারবে না।

তবে মাঠের খেলায় অবশ্য বাংলাদেশ সে রাউন্ড জিতেছিল বেশ ভালোভাবেই। লঙ্কানদের সাথে না পারলেও আফগানদের হারিয়ে ঠিকই সুপার ফোরে পদার্পণ করেছে , এমনকি সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রতিশোধের বাসনা মিটিয়েছে হৃদয়-সাইফরা।

আর তাতেই কিছুটা ভোল পাল্টালেন আকাশ চোপড়া। সুপার ফোরের প্রথম লড়াই শেষে লিটনরা যখন জয়ের বেশে ফিরছে, সেটা দেখে চোপড়া বেশ খুশি হলেন, বললেন, ‘বাংলাদেশ জিতলে খুব ভালো লাগে।’

তবে যাকে দেখতে নারি, তাঁর চলন বাঁকা—চোপড়া দেখালেন এই প্রবাদের বাস্তবতা। আবারও বাজল কটাক্ষের সুর। প্রথম ম্যাচ জেতার পরেও নাকি শ্রীলঙ্কার চেয়েও বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে যাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, ‘জয় পেলেও বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে যাওয়া কঠিন। তাদের পরবর্তী ম্যাচ ভারতের সাথে, এরপরদিনই মোকাবিলা করতে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এমন জয়ের পরেও দেখে মনে হচ্ছে শ্রীলঙ্কার থেকেও বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা কঠিন, যদি শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়।’

আকাশ চোপড়ার শুরুর করা কটাক্ষের জবাব বাংলাদেশ মাঠের খেলায় দিয়েছে, তাঁকে ভুল প্রমাণ করেছে। তবে আরও একবার ভুল প্রমাণ করার সুযোগটা পাচ্ছে লিটন বাহিনী, এখন কেবল ফাইনালে ওঠা বাকি।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link