বৈভব সুরিয়াভানশি, ব্যাট হাতে সূর্যের আলোর মতোই ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিজের নাম। বয়সটা মাত্র ১৪, আর এই বয়সেই ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে নজর কাড়ছেন অবিশ্বাস্য স্ট্রোকপ্লে ও ধারাবাহিকতা দিয়ে। অতীতে অনেক ভারতীয় মহাতারকা অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে আলো ছড়িয়েছেন। বিরাট কোহলি সেই তালিকায় সবার ওপরে। কোহলির পারফরম্যান্স তখনের হিসাবে ছিল অবিশ্বাস্য। তবে বৈভব যেভাবে এগোচ্ছেন তা আরও বেশি বিস্ময়কর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—বৈভব সুরিয়াভানশি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন বিরাট কোহলির তুলনায়?
মাত্র ১৩ বছর বয়সে যুব ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন বৈভব। এরপর থেকে যেন একের পর এক সাফল্যে নিজের নাম খোদাই করছেন ক্রিকেটের ইতিহাসে। আইপিএলে মাত্র ১৪ বয়সে সেঞ্চুরি করে ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে ওঠা এই বাঁহাতি ব্যাটারের খেলা এখন অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও তাক লাগাচ্ছে।
যুব ওয়ানডেতে বৈভব ১০টি ইনিংসে ৫৪ গড়ে রান করেছেন ৫৪০, স্ট্রাইক রেট ১৫৬। নামের পাশে এসেছে এক সেঞ্চুরি এবং তিনটি অর্ধশতক। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি যুব ওয়ানডেতে ২৫ ইনিংসে ৯৭৮ রান করেছিলেন, গড় ছিল ৪৬.৫৭ এবং স্ট্রাইক রেট ৮৫.৫৬। কোহলির ব্যাট থেকেও এসেছে এক সেঞ্চুরি এবং ছয়টি অর্ধশতক। কোহলির তুলনায় বৈভবের গড় এবং স্ট্রাইক রেট দুটোই অনেক এগিয়ে।

তবে যুব টেস্টে বৈভব এখনো পুরোপুরি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। চারটি টেস্ট খেলে ২৮.২৮ গড়ে, রান করেছেন ১৯৮। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি ১৯টি ইনিংসে ৯৩২ রান করেছেন, গড় ছিল ৫১.৭৭। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি সেঞ্চুরি এবং ছয়টি অর্ধশতক। ওয়ানডেতে এগিয়ে থাকলেও বৈভবের লাল বলের ফরম্যাটে এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে।
যুব ওয়ানডেতে কোহলির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন বৈভব। তবে লাল বলের ক্রিকেটে এখনো সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। বৈভবের এই ফরম্যাটে এখনও অনেক কাজ করা বাকি।
বৈভবের সামনে এখন তিনটি চ্যালেঞ্জ— ওয়ানডের উজ্জ্বল শুরুটা ধরে রাখা, লাল বলের ক্রিকেটে দক্ষতা অর্জন, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খাপ খাওয়ানো। যদি এটা উতরে যেতে পারেন তবে বৈভব সুরিয়াভানশির নাম ভবিষ্যতে বড় অক্ষরে লেখা হবে ভারতের ক্রিকেটে।












