হামজা চৌধুরী, এক নি:সঙ্গ যোদ্ধা

 হামজা চৌধুরী তাঁর সমমানের ফুটবলার এখানে পাবেন না, সেই বাস্তবতা মেনেই তিনি খেলেন। কিন্তু, দল যখন তাঁর হয়ে না খেলে প্রতিপক্ষের পাশে থাকে, তখন হামজার আক্ষেপটা বাড়তে থাকবে বারবার। 

হামজা চৌধুরী কোথায় নেই! তিনি রক্ষণ সামলাচ্ছেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিচ্ছেন। বল হোল্ড করে চিকি একটা পাস দিচ্ছেন। তিনি আক্রমণ করছেন। ফ্রি-কিক থেকে গোল করছেন, সে এমন এক বুলেট গতির গোল যা প্রতিপক্ষ তাকিয়ে দেখতে পারে শুধু, তার প্রতিকার করতে পারে না।

হামজা আছেন সব জায়গায়। তিনি নেই কেবল বেঞ্চে। এরকম একজনকে চাইলেই বেঞ্চে বসিয়ে রাখা যায় না। হংকংয়ের কোচ অ্যাশলে ওয়েস্টউড বাড়তি আবেগে একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছেন। এই হামজা চৌধুরীকে সামলানোর ক্ষমতা হংকং দলের নেই।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই আনন্দে ফেটে পড়ে গ্যালারি। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া কোনাকুনি ফ্রি কিকে সরাসরি শট নেন হামজা চৌধুরী। হংকংয়ের এক ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে দিক বদলে বল জড়িয়ে যায় জালে—বাংলাদেশ পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত লিড।

হামজা রূপকথার সেখানেই শুরু, সেখানেই শেষ। বাংলাদেশ দলের উচিৎ ছিল হামজাকে কেন্দ্র করে খেলা। কিন্তু, বাকি দলটা আসলে হামজার হয়ে খেলল না, খেলল যেন হংকংয়ের হয়ে। প্রথম লিড বাংলাদেশ পেলেও ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হংকং চায়নার জন্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল পানির মত সহজ।

হামজা চৌধুরীর আসলে হংকংয়ের বেঞ্চে নয়, থাকা উচিৎ ছিল বাংলাদেশের বেঞ্চে। তিনি মাঠে একা বাংলাদেশকে জেতাতে পারবেন না। হামজা নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলেছেন। কিন্তু, তাঁর একক প্রচেষ্টা দলের বিপর্যয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না কখনওই।

জায়ান আহমেদ, সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম কিংবা জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গ যখন পেতে শুরু করেছেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩-৩ সমতা আনতে পেরেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু ধরে রাখা যায়নি, শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

হামজা চৌধুরী তাঁর সমমানের ফুটবলার এখানে পাবেন না, সেই বাস্তবতা মেনেই তিনি খেলেন। কিন্তু, দল যখন তাঁর হয়ে না খেলে প্রতিপক্ষের পাশে থাকে, তখন হামজার আক্ষেপটা বাড়তে থাকবে বারবার।

 

Share via
Copy link