মুস্তার পেছন পেছন কলকাতায় পাথিরানা

দুই পৃথিবী কিসের আশায় ঘর ছাড়া? এই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে উইকেটের আশায়। এক মৌসুম বাদে আবারও একই পতাকাতলে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ও শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা।

দুই পৃথিবী কিসের আশায় ঘর ছাড়া? এই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে উইকেটের আশায়। এক মৌসুম বাদে আবারও একই পতাকাতলে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ও শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা। দুইজনই খুঁজে নিয়েছেন নিজেদের নতুন ঠিকানা। চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে ২০২৪ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মাতিয়েছিলেন এই দুই পেসার। এবার তাদের মিশন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। যে কাজে তাদের যুগলবন্দী ঈর্ষনীয়।

চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে ২০২৪ সালে মুস্তাফিজ খেলেছিলেন ৯ ম্যাচ। অন্যদিকে পাথিরানাকে সুযোগ দিয়েছিল তারা ৬ ম্যাচে। এই মুস্তাফিজ ও পাথিরানার যুগলবন্দী ব্যবহার করেছে চেন্নাই ৬টি ম্যাচে। আর সেই ছয় ম্যাচে, চেন্নাইয়ের জয়-পরাজয়ের পাল্লা সমান সমান। তিন জয়ের বিপরীতে তিন পরাজয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে জয় পাওয়া তিনটি ম্যাচেই পরে বোলিং করে জিতেছে চেন্নাই।

গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৬৩ রানে, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৭৮ রানে ও  মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ২০ রানের জয় তুলে নিতে সহয়তা করেছিল মুস্তাফিজ ও পাথিরানা জুটি। যদিও পরাজিত দুই ম্যাচেও দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করেছিল চেন্নাই। অতএব এই দুইজনের যুগলবন্দীতে ভাল-খারাপ দু’টো দিকই রয়েছে।

ছয় ম্যাচে, পাথিরানার ১৩ শিকারের পাশাপাশি মুস্তাফিজ উইকেট নিয়েছেন ৮টি। দুইজনের সম্মিলিত বোলিং ইকোনমিত ৮.৭৫। কিন্তু এই ইকোনমি দেখে আসলে মুস্তাফিজ কিংবা পাথিরানাকে বিবেচনা করা কঠিন। কেননা মুস্তাফিজ ডেথ ওভারে খেলার মোড় আমুলে ঘুরিয়ে দিতে জানেন। পাথিরানা প্রয়োজনের মুহূর্তে উইকেট তুলে নিতে সক্ষম। অতএব রান খরচ দিয়ে মুস্তাফিজ কিংবা পাথিরানা ইম্প্যাক্ট যাচাই করা কঠিন।

অতএব দুর্দান্ত একটা বোলিং জুটি পেয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স সে কথা বলা যায় অকপটে। সমস্যা হচ্ছে, সব ম্যাচেই এই দুইজনকে একসাথে জায়গা করে দেওয়া কঠিন হবে যাবে নাইটদের জন্য। টিম কম্বিনেশন, উইকেট ও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোন একজন থাকবেন একাদশে। কিন্তু দুইজনকে একসাথে ব্যবহারের একটা রাস্তা বের করে ফেলতে পারলেই হয়ত তার কলকাতার জন্য বনে যেতে পারে আশীর্বাদ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link