কোহলিকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না অভিষেক!

ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ রানের ইতিহাস গড়া থেকে তিনি থামলেন মাত্র ১৩ রান দূরে, যে রেকর্ডের মালিক বিরাট কোহলি। তাই তো প্রশ্ন উঠছেই, অভিষেক শর্মার ২০২৫ বনাম বিরাট কোহলির ২০১৬, কার বছরটা ছিল বেশি প্রভাবশালী?

২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টিতে চারটি সিরিজ জয় আর এশিয়া কাপের শিরোপা, ভারতের জন্য বছরটা ছিল প্রায় নিখুঁত। এই সাফল্যের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি র আলো ছড়িয়েছেনন অভিষেক শর্মা, যিনি ৪০ ইনিংসে ১৬০২ রান করে হয়ে উঠলেন বছরের সেরা আবিষ্কার। ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ রানের ইতিহাস গড়া থেকে তিনি থামলেন মাত্র ১৩ রান দূরে, যে রেকর্ডের মালিক বিরাট কোহলি। তাই তো প্রশ্ন উঠছেই, অভিষেক শর্মার ২০২৫ বনাম বিরাট কোহলির ২০১৬, কার বছরটা ছিল বেশি প্রভাবশালী?

নয় বছর আগের ২০১৬ সাল ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। বিরাট কোহলি তখন নিজের ক্যারিয়ারের চূড়ায়। মাত্র ২৯ ইনিংসে ১৬১৪ রান, গড় ৮৯.৬৬, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা আজও অবিশ্বাস্য। সেই কোহলি শুধু রান করেননি, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন, প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছেন এবং দলকে একের পর এক জয়ের পথে টেনে নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে অভিষেক শর্মার ২০২৫ ছিল ভিন্ন ধাঁচের গল্প। তিনি ছিলেন আগ্রাসনের প্রতীক। স্ট্রাইক রেট ২০২, পাওয়ারপ্লেতে বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়াই ছিল তার মূল দায়িত্ব। দ্রুত রান তোলা, ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া এবং শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা, এই ভূমিকায় অভিষেক ছিলেন নিখুঁত।

পরিসংখ্যানেই ধরা পড়ে দুই প্রজন্মের পার্থক্য। কোহলি যেখানে ১৪৭ স্ট্রাইক রেটেও প্রায় ৯০ গড়ে রান করেছেন, সেখানে অভিষেকের গড় ৪১ হলেও তার আগ্রাসন ছিল বিধ্বংসী। মজার ব্যাপার হলো, কনভার্সন রেটে এগিয়ে অভিষেকই২৫ শতাংশ, যেখানে কোহলির ছিল ২২.২।

ঘরের মাঠে দু’জনই ছিলেন ভয়ংকর। কোহলি ১৪ ইনিংসে ৮৭০ রান করেছেন ৮৭ গড়ে, স্ট্রাইক রেট বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২-তে। অভিষেক ঘরের মাঠে ১০ ইনিংসে ৪৭৬ রান করেছেন ৪৭.৬০ গড়ে, স্ট্রাইক রেট ২১৩, সঙ্গে দুটি শতক। ঘরের দর্শকদের সামনে দু’জনই নিজেদের ভূমিকা শতভাগ পালন করেছেন।

তবে আসল পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে বিদেশের মাটিতে। অ্যাওয়ে ম্যাচে বিরাট কোহলি যেন আরও ভয়ংকর। ১৫ ইনিংসে ৭৪৪ রান, গড় ৯৩, একটি শতক ও সাতটি অর্ধশতক। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা বিদেশে ভালো খেললেও তার গড় নেমে আসে ৩৯.৮৬-এ। সংখ্যার খাতায় ব্যবধানটা এখানেই স্পষ্ট।

প্রভাবের বিচারে তাই পাল্লাটা ভারী হয় বিরাট কোহলির দিকেই। ২০১৬ বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং ভারতকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। একই বছর আইপিএল-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ফাইনালে তুলেছিলেন একপ্রকার একাই। শিরোপা না এলেও কোহলির ব্যাটিং পুরো বছরজুড়ে ক্রিকেটবিশ্ব শাসন করেছে।

তবে অভিষেক শর্মার অবদানও কম নয়। তার আগ্রাসী ব্যাটিংই ভারতের এশিয়া কাপ ২০২৫ জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তিনি হয়তো কোহলির ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙতে পারেননি, কিন্তু স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন, ভারতের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ এখন নিরাপদ হাতে।

একজন ইতিহাস লিখেছিলেন, আরেকজন ইতিহাসের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন। বিরাট কোহলির ২০১৬ ছিল অতুলনীয়, আর অভিষেক শর্মার ২০২৫—এক নতুন যুগের সূচনা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রজন্ম বদলায়, তুলনাও বদলায় না, এটাই এই খেলাটার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link