বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণা পর্ব শেষ। প্রত্যাশিত সব নামই জায়গা করে নিয়েছে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে। এর মাঝে বেশ কিছু নাম রয়েছে যাদের না থাকাটা কিছুটা হলেও অবাক করার মতো, কিংবা সুযোগ পেলে তারা হতে পারতেন দলের ভরসা। দেখে নেওয়া যাক তালিকা, সাথে জেনে নেওয়া যাক না থাকা বা বাদ পড়ারও কারণগুলো।
সবার প্রথমেই আসবে রিপন মন্ডলের নাম। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সেরা বোলারদের একজন তিনি, বিশেষ করে ডেথ ওভারে। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, ঘরোয়াতেও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। বিপিএলে দুই ম্যাচে সক্ষমতার জানান দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছিল, বিশ্বকাপের দলে ঢুকে পড়বেন হয়তো।
তবে নির্বাচকরা সেই সুযোগটা দেননি। যথেষ্ট কারণও অবশ্য আছে। বাংলাদেশের বোলিং লাইন-আপ দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনামাফিক এগিয়েছে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই ইউনিটকে সময় দিয়ে ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সফলতাও আসছে। তাই তো নতুন একজনকে হুট করেই বিশ্বকাপ দলে ঢুকিয়ে দেওয়া সমীচীন মনে করা হয়নি।

বিপিএলে সেরা ছন্দে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ধারণা করা হচ্ছিল বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্তই করে ফেলবেন তিনি। তবে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এই ব্যাটার এবার স্কোয়াডের বাইরে।
সে বছর শান্ত ২০টি ম্যাচে ৩৫৮ রান করলেও তার গড় ছিল মাত্র ১৮.৮৪, যা টি–টোয়েন্টি মানদণ্ডে প্রত্যাশিত নয়। ২০২৫ সালে তাকে মাত্র একটি ম্যাচ খেলানো হয়, যেখানে তিনি করেন ২৭ রান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব এবং রান করার ব্যর্থতার কারণেই আস্থা হারিয়েছেন তিনি।

স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া আরেকজন হলেন জাকের আলী। কিছুদিন আগেও যিনি টি–টোয়েন্টি দলের কাণ্ডারি হয়েই খেলেছেন এমনকি দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই জাকের আলী এবার বিশ্বকাপ দলে নেই। ফিনিশার হিসেবে তার ভূমিকা প্রত্যাশিত হলেও পারফরম্যান্সে তা প্রতিফলিত হয়নি।
২০২৫ সালে ২৩ ইনিংসে ৩৭৮ রান, গড় ২২.২৩ এবং ১২৩.৯৩ স্ট্রাইক রেট, এই পরিসংখ্যান আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই নয়। তবুও মেনে নেওয়া যেত যদি শেষ কিছু ম্যাচের পরিসংখ্যান আশা জাগানিয়া হতো। তিনি যে বর্তমানে ফর্মহীনতার চূড়ায় রয়েছেন।

দলে না থাকা আরেক নাম নাহিদ রানা। ২০২৪ সালে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে আলোচনায় আসা এই তরুণ পেসারকে ভবিষ্যতের বড় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ২০২৫ সালে তাকে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই ম্যাচে দুই উইকেট নিলেও নিয়মিত সুযোগের অভাবে নিজেকে প্রমাণ করা হয়ে ওঠেনি।
সব মিলিয়ে এবারের স্কোয়াড ঘোষণায় বিসিবি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, নাম বা অতীত নয়, বর্তমান ফর্মই বিবেচনার মূল ভিত্তি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটার উত্তর দেবে মাঠের পারফরম্যান্সই।












