‘সাকিব’ নামক রচনার অনিশ্চিত উপসংহার

প্রথমত আইনি জটিলতার দীর্ঘসূত্রতা, তারপরে আবার বিসিবির নবগঠিত কমিটির এই আমূল পরিবর্তনের ঢেউ - এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সাকিবের ফেরার পথটি এখন অনেকটাই রূপকথা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের আকাশে যে নক্ষত্রটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ধ্রুবতারার মতো পথ দেখিয়েছে, সেই সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারের উপসংহারটা যেন অনিশ্চয়তার মুখে। সম্প্রতি বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল এবং নীতিনির্ধারকদের শরীরী ভাষা ও বক্তব্যে এমন এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জন্ম দিচ্ছে এক বিষণ্ণ প্রশ্ন – সাকিব কি তবে কার্যত আর ফিরছেন না দেশের জার্সিতে?

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী কমিটি সাকিবের ফেরা নিয়ে কিছুটা নমনীয় থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন কমিটি স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু ‘শূন্য; থেকে শুরু করতে চাইছে। যেখানে সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়ার পথে হাঁটছে না বোর্ড। বরং আইনি জটিলতা এবং বর্তমান ফিটনেস – এই দুই কাঁটার ওপর দাঁড়িয়ে সাকিবের ফেরার পথ ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

সাকিব মানেই এক সময় ছিল নিশ্চিত পারফরম্যান্স। কিন্তু সময়ের করাল গ্রাসে সেই চিরচেনা ফর্মে মরিচা ধরেছে। নব্য প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কণ্ঠেও ঝরল সেই বাস্তবতার সুর। তিনি স্পষ্ট করেই বললেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে শুধু ফিট থাকাই যথেষ্ট নয়। প্রস্তুতির যে গভীরতা প্রয়োজন, বর্তমানে সাকিবের মাঝে তার ঘাটতি রয়েছে।’

যেখানে সাকিব বর্তমানে অবস্থান করছেন, সেখানে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফিটনেস নিয়ে কাজ করা গেলেও ক্রিকেটের মূল স্কিলগুলোতে ধার ফিরিয়ে আনা এই বয়সে আর সময়ের অভাবে সাকিবের জন্য হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথমত আইনি জটিলতার দীর্ঘসূত্রতা, তারপরে আবার বিসিবির নবগঠিত কমিটির এই আমূল পরিবর্তনের ঢেউ। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সাকিবের ফেরার পথটি এখন অনেকটাই রূপকথা। দীর্ঘ বিরতি, অনুশীলনের অভাব আর বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া ফিটনেস – সব মিলিয়ে সেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য যে প্রস্তুতির প্রয়োজন, তার রসদ জোগাড় করার মতো পর্যাপ্ত সময়ও হয়তো আর সাকিবের হাতে অবশিষ্ট নেই।

বাস্তবতার রূঢ় দর্পণে তাকালে আজ স্পষ্ট দেখা যায়, লাল-সবুজের জার্সিতে সাকিবের সেই মহাকাব্যিক অধ্যায়ের যবনিকা হয়তো অলক্ষ্যেই পড়ে গেছে। একদিকে আইনের বেড়াজাল, অন্যদিকে বোর্ডের পেশাদারিত্বের নতুন সমীকরণ – এই দুইয়ের মাঝে সাকিবের ফেরাটা এখন কেবলই এক ধূসর মরীচিকা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link