সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকে বোর্ডের (বিসিবি) সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুই পরিচিত নাম—আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মোহাম্মদ আশরাফুল। আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়ার বিনিময়েই জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরের পদ বাগিয়ে নেন বুলবুল।
ঘটনার শুরুটা প্রশাসনিক এক কৌশল দিয়ে। সরকার চাইলে যেহেতু এনএসসি মনোনীত কোনো পরিচালককে সরিয়ে দিতে পারে, তাই নিজের অবস্থানকে আরও শক্ত করতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হিসেবে আনা হয়েছিল। এই জায়গা করে দিতে পদত্যাগ করেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। আর ঠিক সেই জায়গাতেই তৈরি হয় এক অদ্ভুত বিনিময়ের গল্প—যেখানে আশরাফুলকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দিয়ে যেন প্রতিদান দেওয়া হয়।

এই নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে শুরু থেকেই। কারণ, বিসিবির মতো বড় পরিসরে ব্যাটিং কোচ হিসেবে সাধারণত বিদেশি কোচদেরই দেখা যায়। সেখানে আশরাফুল—যার কোচিং অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ মূলত বিপিএল পর্যন্ত—তার হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত লেগেছে। তার ওপর আকাশচুম্বি বেতনের অঙ্ক নিয়েও রয়েছে আলোচনা।
তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক সাক্ষাৎকারে দেওয়া তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুলের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, লেভেল থ্রি কোচিং ডিগ্রি এবং বিশেষায়িত ব্যাটিং কোর্সে উত্তীর্ণ হওয়া—সব মিলিয়েই তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। বিশেষ করে যখন জাতীয় দলের ব্যাটিং লাইনআপ বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন একজন ব্যাটিং বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন ছিল—এই যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি।

অবশ্য, তাতেও কূল রক্ষা হচ্ছে না। বোর্ডের পালাবদল যেহেতু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আশরাফুলেরও দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।










