বাবার নামের জোরে নয়, সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে হাসান ইসাখিল প্রমাণ করলেন প্রতিভার জোরেই তিনি খেলছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারতেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সেদিন ব্যর্থ হলেও, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আর ব্যর্থ হলেন না তিনি। দ্বাদশ বিপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এলো হাসান ইসাখিলের হাত ধরে।
এক ম্যাচ বাদেই তিনি বাবা মোহাম্মদ নবীকে বাঁচালেন অনুশোচনা থেকে। ঢাকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি মিস করার পর নবী নিজের উপর ছেলের সেঞ্চুরি মিসের দায়টা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার জন্যই ওর সেঞ্চুরিটা হলো না। আমি থাকলে সাহস পেত। আমি আউট হওয়ার পর খুব নার্ভাস হয়ে গেছে। উচিত ছিল সেঞ্চুরি পর্যন্ত ওর সঙ্গ দেওয়া।’
বাবার আক্ষেপ ঘোচাতে শুধু যে এদিন তিনি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তা নয়, দলের মোট ১২ ছক্কার মধ্যে ১১টি ছক্কাই হাঁকিয়েছেন হাসান ইসাখিল। এমন দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল ধীরগতিতে। নিজের নামের পাশে একটি রান যুক্ত করতে তার অপেক্ষা করতে হয়েছিল আট বল অবধি। তখন দর্শকরা সন্দেহ নিশ্চয়ই প্রকাশ করেছিল তার সামর্থ্য নিয়ে।

কিন্তু ১৮ রানের মাথায় ফাহিম আশরাফ হাসান ইসাখিলকে দিলেন জীবন। তখন ২০ বলে ১৮ রানে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহাম্মদ নবীর ছেলে। এরপরই যেন ইসাখিল দিনের দ্বিতীয় সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইলেন। নিজের প্রথম বিপিএল আসরেই ইতিহাসে স্থান করে নিতে চাইলেন। তবে তাড়াহুড়ো করলেন না।
৫০ বলে ৫০ করার পরই মূলত শুরু হয় তার ধুন্ধুমার ব্যাটিং অধ্যায়। এদিন মোট ৭২ বল খেলেছেন হাসান ইসাখিল। যার মধ্যে তিনি সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন নিজের খেলা ৭০তম বলে। অর্থাৎ ফিফটির পরে পরবর্তী ১৮ বলে সেঞ্চুরির গণ্ডি পেরিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ফিফটি হাঁকানোর আগে তার বাউন্ডারির সংখ্যা ছিল সাতটি। যার চারটিই ছিল ছক্কা।
কিন্তু ফিফটি করার পর তার বাউন্ডারির ঝুলিতে যুক্ত করেন আরও আটটি বাউন্ডারি। যার সাতটাই ছিল ছক্কা। হায়দার আলীর সাথে ১৩৭ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে নোয়াখালীকে এনে দিয়েছেন মাঝারি মানের পুঁজি। দিনশেষে ১৭৩ রানের সংগ্রহ যথেষ্ট হয় কি-না তা নির্ভর করছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বোলারদের কাঁধে। নিজের দায়িত্বটা ষোলআনা ঠিকঠাক পালন করেছেন হাসান ইসাখিল।

অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংসটিতে ইসাখিল জানান দিলেন- বাবার নাম বেঁচে তিনি বিচরণ করতে চান না ক্রিকেট দুনিয়ায়, বরং নিজ যোগ্যতায় রাজত্ব করার লক্ষ্য নিয়ে আগমন ঘটেছে তার।











