এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে ছক্কা। এক হাত উঁচু করে বীরের বেশে দাঁড়িয়ে ক্রিস ওকস। নিজের টেরিটরি পরিষ্কার করার অনুভূতি। সিলেট টাইটান্সের পয়সা উসুল। রোমাঞ্চকর এলিমিনেটরে, সিলেটের নতুন সংযোজনগুলোই পার্থক্য গড়ে দিল। রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালের পথে আরেকটু এগিয়ে গেল সিলেট টাইটান্স।
এলিমিনেটরের আগে দুই ইংলিশ ক্রিকেটারকে উড়িয়ে আনে সিলেট টাইটান্স। ক্রিস ওকসের সাথে, স্যাম বিলিংস। নিজেদের স্কোয়াডের শক্তি বাড়ায় দলটি। সেই শক্তির জোরেই শেষ অবধি এলিমিনেটরের লো-স্কোরিং রোমাঞ্চে জয় তুলে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। অধিনায়ক মিরাজ দৌড়ে এসে উঠে পড়লেন ওকসের কোলে। সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী শেজদাহতে লুটিয়ে পড়লেন।
শিরোপার দাবিদার দলটাকে ইংলিশ ক্রিকেটারদের জোরে বাড়ি পাঠাল চায়ের দেশের প্রতিনিধিরা। এদিন ক্রিস ওকস জয়ের রাস্তা তৈরি করতে শুরু করেন বল হাতে। দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেন রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং শিবিরে। প্রথম ওভারে গতির ঝড়ে দিলেন মোটে দুই রান। দ্বিতীয় ওভারে আরও দুই রানের বিনিময়ে ফেরালেন ডেভিড মালানকে।

আরও একটি উইকেট-সহ তার সর্বমোট খরচ ১৫ রান। তবে নতুন বলে তিনি যেই ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিলেন, সেখান থেকে আর বেড়িয়ে আসতে পারেনি রংপুর রাইডার্স। স্রেফ ১১১ রানে থামে তাদের সংগ্রাম। এরপর সবাই ভেবেছিল ম্যাচটা সহজেই জিতে যাবে সিলেট টাইটান্স। কিন্তু রংপুরের বোলিং ইউনিট লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিল। তাকে করে লো স্কোরিং ম্যাচটা জমে ক্ষীর।
এখানেই এগিয়ে এলেন আরেক ইংলিশ খেলোয়াড় স্যাম বিলিংস। ৪৪ রানে চার উইকেট হারানো দলটা পড়ে গিয়েছিল পরাজয়ের শঙ্কা। সেখান থেকে ইনিংস মেরামত করার কাজটা করেন বিলিংস। ৪০টা বলে ২৯ রান, মোটেও টি-টোয়েন্টির মানদণ্ড ভাল কোন পারফরমেন্স নয়। তবুও পরিস্থিতি বিচারে, তার ঐ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাই শেষ অবধি জয়ের সম্ভাবনাকে স্তিমিত হতে দেয়নি।
তবে মুস্তাফিজুর রহমানের কল্যাণে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। ফাহিম আশরাফের ধূর্ততায় শেষ বলে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬ রান। এদিন যে জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করার কাজটা শুরু করেছিলেন ক্রিস ওকস, সে কাজটা নিজেই শেষ করলেন। ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের সীমানায় পৌঁছে দিলেন। তাদের উড়ে আসা সার্থক হল বটে।












