ভারতীয় ক্রিকেটে একটাই চরিত্রই যেন বারবার খলনায়ক হয়ে উঠছে। নাম তার গৌতম গম্ভীর। এমন এক খলনায়ক, যাঁর নাকি প্রধান কাজই হলো বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মা—এই দুই মহারথীর বিদায় নিশ্চিত করা। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট বাধ্যতামূলক করা—ভারতীয় ক্রিকেটে যা কিছু ভুল হচ্ছে, তার দায় যেন এসে পড়ছে একাই গম্ভীরের ঘাড়ে। সাম্প্রতিক টেস্ট আর ওয়ানডের বাজে ফলাফলকে পাশ কাটিয়েও একটা ধারণাই দানা বেঁধেছে—গম্ভীর চান কোহলি-রোহিতকে টিমের বাইরে।
গম্ভীর অবশ্য আগেও বারবার একটাই কথা বলে এসেছেন—২০২৭ বিশ্বকাপ এখনও বেশ দূরে, কেউই নিশ্চিত নন। কথাটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার আদালতে যুক্তি নয়, চলে নিজের মন গড়া কৌশল। আর সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে গল্প—গম্ভীর বনাম কোহলি-রোহিত।
এই আবহেই প্রথমবার, কারও নাম না নিয়েই, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতীয় হেড কোচ। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের একটি পোস্টের জবাবে তিনি লিখলেন, ‘সব ঝড় থেমে গেলে বোঝা যাবে একজন কোচের তথাকথিত অসীম ক্ষমতা আসলে কতটা। কীভাবে আমাকে আমারই সেরাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হচ্ছে, সেটা বাই দেখছে। আমি এটাকে স্রেফ ফান হিসেবেই দেখছি।’

কথাটা ছোট, কিন্তু বার্তাটা বেশ পরিষ্কার। অথচ, গম্ভীরকে নিয়ে কী না বলা হয়েছে! তিনি নাকি ভারতীয় ক্রিকেট ধ্বংস করে দেবেন। কেউ আবার তাঁকে আখ্যা দিয়েছেন ‘গ্রেগ চ্যাপেল-এর পর ভারতের সবচেয়ে একনায়কতান্ত্রিক কোচ’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো তিনি নিয়মিতই মিমের খোরাক। তাঁর অদ্ভুত কম্বিনেশন, প্রচলিত ধারা ভাঙা সিদ্ধান্ত—সবই প্রশ্নের মুখে।
কিন্তু মাঠের বাইরের গুঞ্জন থামেনি। গম্ভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা লম্বা। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট বলছে, রোহিত শর্মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই তিক্ত ছিল যে অনুশীলনে দু’জন একে অপরকে এড়িয়ে চলতেন। ‘দৈনিক জাগরণ’ আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করে, অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন দু’জনের মধ্যে মুখ দেখাদেখিই বন্ধ হয়ে যায়। কোহলির সঙ্গেও নাকি সমীকরণ বদলেছে — প্রয়োজন না পড়লে নাকি তাঁরা কথাই বলেন না।
ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভরাডুবির পর গম্ভীর স্পষ্ট করে দেন, তিনি নিজে থেকে পদ ছাড়বেন না। তবে বিসিসিআই যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তা তিনি মেনে নেবেন। এরই মধ্যে গুঞ্জন ওঠে, বোর্ড নাকি একজন রেড-বল স্পেশাল কনসালট্যান্ট ভাবছিল—যা শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া নাকচ করে দেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে সময়টা বেশ অদ্ভুত।

গম্ভীরের অধীনে ভারত জিতেছে এশিয়া কাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি—এই সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিতেও তিনি ভুলেননি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক পতন বড় দুশ্চিন্তা। ২০২৬ সালে টেস্ট ম্যাচ কম, ফলে কিছুটা নি:শ্বাস নেওয়ার সময় মিলতে পারে। তবে যদি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে ভারত হোঁচট খায়, তাহলে পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
এই মুহূর্তে গৌতম গম্ভীর যেন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে নি:সঙ্গ মানুষ। সিদ্ধান্ত নেন তিনি, কিন্তু রায় দেয় গোটা ভারত, স্যোশাল মিডিয়া ট্রায়ালে। ইতিহাস ঠিক করবে, তিনি সত্যিই খলনায়ক ছিলেন, নাকি সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা নিতান্তই এক ‘ভুল বোঝা’ চরিত্র।










