ক্রিকেট এখন বদলে গেছে। এখানে আবেগের চেয়ে হিসাব বড়, নামের চেয়ে প্রয়োজন বড়, এখানে ইমপ্যাক্টই শেষ কথা। যে কারণে এখন আর বড় তারকা, দলের ভরসা, কিংবা সিনিয়র সদস্য, এই শব্দগুলো মাঠে খুব একটা ওজন রাখে না। এখানে এখন একটাই কথা, কে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে প্রতিপক্ষকে, তাকেই দরকার। আর ঠিক সেই বাস্তবতা থেকেই স্বাভাবিক রূপ লাভ করেছে ‘রিটায়ার্ড আউট’ শব্দটি।
একসময় রিটায়ার্ড আউট মানেই ছিল ব্যতিক্রম, বিরল ঘটনা। কিন্তু আজকের দিনে এটা পুরোপুরি কৌশল। দল যখন বুঝে ফেলে, এই ব্যাটসম্যান আর ম্যাচের গতি বদলাতে পারছে না, তখন নাম, পরিচিতি, রান, সবকিছুকে পাশে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যাট হাতে থাকা ক্রিকেটারকেই স্বেচ্ছায় ডাগআউটে ফেরানো হয়।
বিগ ব্যাশের নকআউট পর্বে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন স্যাম হার্পার। আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি, ব্যাট করেছেন ১৫৫ স্ট্রাইক রেটে।২৫০ রানের বেশি করা ব্যাটারদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিবিলের প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট তিনি। এমন একজনকেও দলের প্রয়োজনে সেচ্ছায় সাজঘরের পথ ধরতে হয়েছে। অথচ তিনিই ছিলেন দলের ব্যাটিং মেরুদন্ড।

তবে হার্পার শুধু একা নন। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে এমন ঘটনা এখন প্রায়শই দেখা যায়। কিছুদিন আগে ওই বিগ ব্যাশেই মোহাম্মদ রিজওয়ান রিটায়ার্ড আউট হয়ে ফিরেছিলেন। দলের তখন বিগ হিটারের দরকার ছিল, যে দাবি মেটানোর কাজটা রিজওয়ান মূলত করেন না।
আইএল টি-টোয়েন্টি চলাকালীন সময়ে সাকিব আল হাসানকেও রিটায়ার্ড আউট নিয়মে তুলে নিয়েছিলেন এমআই এমিরেটস অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। বিষয়টা নিয়ে আবেগ থাকলেও বাস্তবতা হলো টি-টোয়েন্টিতে আবেগের কোনো জায়গা নেই। এখানে কাউকে ‘অসম্মান’ করা হচ্ছে না, বরং ম্যাচ জেতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাই তো বাবর আজমের মতো তারকাকেও পর্যাপ্ত বল থাকার পরও স্ট্রাইক দেন না স্টিভেন স্মিথ। দর্শনটাই এখন এমন যত পারো, মেরে খেলো। এখন কেউ জিজ্ঞেস করে না, কে কত রান করেছে, কে কতদিন খেলছে, বা কে কত বড় নাম। প্রশ্ন একটাই—শেষ পাঁচ ওভারে কে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে? যে পারবে, সে-ই খেলবে। না পারলে, সে যত বড় তারকাই হোক, তাকে সরে দাঁড়াতে হবে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মূলত এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার নাম। এখানে সময় নেই নিজেকে প্রমাণ করার, সময় নেই ছন্দে ফেরার। এখানে প্রতি বলেই হিসাব, প্রতি ওভারেই চাপ। আর সেই চাপ সামলাতে না পারলে রিটায়ার্ড আউট কোনো অপমান নয়, বরং দলের জন্য আত্মত্যাগ।
অনেকেই এটাকে ক্রিকেটের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া বলে মনে করেন। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এটা ক্রিকেটের বিবর্তন। রিটায়ার্ড আউট এখন আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতা।











