রিশাদ হোসেনের স্পেল যখন শেষ হলো ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে স্বয়ং রিকি পন্টিং বলে উঠলেন, ‘দ্যটস এ ব্রিলিয়ান্ট স্পেল’। তাঁর কণ্ঠে এক গৌরবের সুর, বাজি জিতে যাওয়ার উচ্ছ্বাস। রিশাদকে তো তিনিই খুঁজে নিয়েছেন, শেষমেষ ওই রিশাদই হয়েছে হোবার্ট হারিকেন্সের মূল অস্ত্র, সবচেয়ে বড় ভরসা।
ম্যাচে রান আটকাতে হলে রিশাদকে চায়, উইকেট তুলতে রিশাদ ছাড়া গতি নেই, গুরুত্বপূর্ণ ওভারে অধিনায়কের সবচেয়ে বড় বিশ্বাস হয়ে বল হাতে তুলে নেন রিশাদ। চ্যালেঞ্জারেও তাই ওই রিশাদই ভরসার প্রতীক হয়ে উঠলেন আরও একবার।
প্রথম ওভারে যখন এলেন সিডনি সিক্সার্সের ব্যাটাররা রান তুলছেন ঝড়ের গতিতে। তবে রিশাদের ভয় নেই চোখেমুখে। নিজের কাজটা করে গেলেন খরচা করলেন মাত্র ছয় রান। তবে নেই কোন উইকেটের দেখা। নিজের করা দ্বিতীয় ওভারে সাফল্যে পেলেন যদিও আট রানের বেশি দিলেন না।

স্টিভেন স্মিথ তখন তান্ডবলীলায় মেতেছেন। কোন বোলারই তাঁর আগ্রাসনের সামনে দাঁড়াতে পারছে না। এরপর আবার পাওয়ার সার্জ। এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে হোবার্ট কাপ্তান বেন ম্যাকডরমট বল হাতে দিলেন রিশাদের। তিনি জানতেন স্মিথ-মইসেস হেনরিক্সদের থামাতে যদি কেউ পারে সেটা রিশাদই।
যেই কথা সেই কাজ। ১৩ তম ওভারের প্রথম বলেই স্মিথকে দেখান সাজঘরের পথ। পরের চার বলে খরচা করলেন ১৫ রান। তবুও পথ হারালেন না রিশাদ। শেষ আঘাতটা হানলেন হেনরিক্সের উপর। তুলে নিলেন তাঁকেও।
তবুও রানের চাকা থামলো না সিডনির। ১৭ তম ওভারে আবারও আনা হলো রিশাদকে। আর এখানেই বাজিমাত করলেন তিনি। ওভার শেষ করলেন মাত্র চার রান খরচায়। একটা উইকেটও অবশ্য পেতে রানতেন। রিশাদের টার্ন বুঝতে পারেননি প্রতিপক্ষ ব্যাটার জ্যাক এডওয়ার্ড। ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের দস্তানায়। আবেদন হলো, আম্পায়ার সাড়া দিলেন। তবে রিভিউ নেয়নি হোবার্ট, উইকেটটাও পাওয়া যায়নি রিশাদের।

তাতে অবশ্য আলো সরে যায় নি রিশাদের উপর থেকে। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে শিকার করেছেন দুটি উইকেট। আসরজুড়ে যে নিজের জাতটা চিনিয়ে গেছেন, হোবার্টের পয়সা উশুল করে দিয়েছেন।
Share via:











