বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর দ্বাদশ আসরের পর্দা নেমেছে বহু রোমাঞ্চ আর অর্জনের গল্প লিখে। স্মরণীয় এক মৌসুম শেষে সবচেয়ে যোগ্য দল হিসেবেই শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি এবারের বিপিএল হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেরও এক উজ্জ্বল মঞ্চ, যেখানে ক্রিকেটাররা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন মোটা অঙ্কের প্রাইজমানি।
বিপিএলের এই আসরে মোট পুরস্কারমূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশ নিজেদের করে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ট্রফির সঙ্গে তারা ঘরে তুলেছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। রানার্সআপ টিম হিসেবে চট্টগ্রাম রয়্যালস পেয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ফাইনালের মঞ্চে রাজশাহীর হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই এনে দেয় দলকে কাঙ্ক্ষিত জয়। সেই অসাধারণ ইনিংসের সুবাদে তিনি নির্বাচিত হন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, প্রাইজমানি হিসেবে পান ৫ লাখ টাকা।

ব্যাট হাতে পুরো আসরজুড়ে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট পরেন পারভেজ হোসেন ইমন। ১২ ম্যাচে প্রায় ৪০ গড়ে ৩৯৫ রান করেন ইমন। সেরা ব্যাটার হিসেবে তার ঝুলিতে যোগ হয় ৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে বল হাতে দুর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করেন শরিফুল ইসলাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পেসার টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৬টি উইকেট শিকার করে জেতেন সেরা বোলারের পুরস্কার, ৫ লাখ টাকা।
পাশাপাশি মৌসুমজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হওয়ার ট্যাগটিও বসে শরিফুলের নামের পাশেই। যার প্রাইজমানি ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে কেবল ব্যাক্তিগত পুরস্কার থেকেই শরিফুলের মোট আয় দাঁড়ায় ১৫ লাখ টাকা।

মাঠে ক্ষিপ্রতা ও নিখুঁত ফিল্ডিংয়ের জন্য রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক লিটন দাস জিতে নেন সেরা ফিল্ডার পুরস্কার, যার মূল্য ৩ লাখ টাকা।
আর তরুণদের তালিকায় উজ্জ্বল নাম হয়ে ওঠেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের রিপন মন্ডল। শেষ দুই ম্যাচ না খেললেও টুর্নামেন্টের শুরুতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সবার নজর কাড়েন এই পেসার। ফলস্বরূপ তিনি নির্বাচিত হন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে, সঙ্গে পান ৩ লাখ টাকা প্রাইজমানি।
সব মিলিয়ে বিপিএল ২০২৬ মূলত দেশীয় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেই আলো ছড়িয়েছে। ব্যাট হাতে ইমন-হৃদয়দের অনবদ্য পারফরম্যান্স আর বল হাতে শরিফুল কিংবা রিপন মন্ডলের অপ্রতিরোধ্য বোলিং তাদের ব্যাক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটেও স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে।











