বিপিএল দ্বাদশ আসরের ফ্লপ একাদশ!

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরে কেউ কেউ হয়েছেন দলের ভরসার নাম,কেউ আবার  শিরোপা জয়ের নায়ক, সেখানে কিছু নাম প্রত্যাশার ভারেই যেন চাপা পড়ে গেছে। খেলা ৭১–এর চোখে এবারের বিপিএলের ফ্লপ একাদশটা তাই পারফরম্যান্সের বিচারে নয়, বরং প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতার ব্যবধান থেকেই বাছাই করা।

মধ্য রাতের আকাশ জুড়ে আসশবাজির খেলা, রাতের আধার ভেদ করে আলো ঝলমলে এক আবহের মাঝে শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরে কেউ কেউ হয়েছেন দলের ভরসার নাম,কেউ আবার  শিরোপা জয়ের নায়ক, সেখানে কিছু নাম প্রত্যাশার ভারেই যেন চাপা পড়ে গেছে। খেলা ৭১–এর চোখে এবারের বিপিএলের ফ্লপ একাদশটা তাই পারফরম্যান্সের বিচারে নয়, বরং প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতার ব্যবধান থেকেই বাছাই করা।

হাবিবুর সোহান

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই ওপেনারকে আকাশ্চুম্বী প্রত্যাশা ছিল বটে। তবে তিনি পারেননি দলকে প্রতিদান দিতে, পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করতে। আট ম্যাচ খেলেছেন, নামের পাশে মাত্র ৮৯ রান। ব্যাটিং গড় ১১। মারকুটে ব্যাটারের তকমা গায়ে সেটে থাকলেও স্ট্রাইক রেট ১০৮। ফলাফল, নিজেও ব্যর্থ সাথে দলও।

 

সায়িম আইয়ুব

ব্যর্থতার আরেক অধ্যায় রচনা করেছেন সায়িম আইয়ুবও। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সিলেট টাইটান্স উড়িয়ে এনেছিল তাঁকে। বড় নামের আসনটাও পেয়েছিলেন এবারের বিপিএলে। তবে ব্যাট হাতে কেবল হতাশা ছাড়া আর কিছু দিতে পারেননি। চার ম্যাচে খেলে করেছেন ৬৮ রান। ব্যাটিং গড় ১৭ স্ট্রাইক রেটটাও ১১৭। অবশ্য বল হাতে চার ম্যাচে তিন উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তবে নামের ভার যতটুকু সে অনুযায়ী তাঁকে ব্যর্থ বলায় যায়।

সাইফ হাসান

জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক, এশিয়া কাপে দেখিয়েছিলেন নিজের সক্ষমতার সবটা। ঢাকা ক্যাপিটালস তাই ডিরেক্ট সাইনিংয়ে দলে টেনেছিল সাইফ হাসানকে। তাঁকে ঘিরেই সাজানো হয়েছিল সমস্ত পরিকল্পনা। তবে পুরোটাই ভেস্তে দিয়েছেন সাইফ। প্রথম আট ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৬০ রান। শেষ ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে কোনমতে মান বাচিয়েছেন। নয় ম্যাচে মোট রান দাঁড়িয়েছে ১৩৩। ব্যাটিং গড় প্রায় ১৫ আর স্ট্রাইক রেট ১১৪। দলের মূল সদস্যের কাছ থেকে আসা এমন পারফরম্যান্স গোটা আসরজুড়েই ভুগিয়েছে ঢাকাকে।

জাকের আলী অনিক

জাতীয় দলের অফফর্ম যেন বিপিএলেও টেনে এনেছিলেন জাকের আলী অনিক। নোয়াখালীর জার্সি গায়ে সুযোগ ছিল সব সমালোচনার ঝেড়ে ফেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার। তবে জাকের সেটা পারেননি। আট ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১১৪ রান, গড় যেখানে ১৬.২৮। ১০৫ স্ট্রাইক রেটটা দেখিয়েছে ব্যর্থতার রূপরেখা।

কাইল মায়ার্স

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পরিচিত নাম কাইল মায়ার্স। বিপিএলে আগেও দেখিয়েছেন নিজের শক্তিমত্ত্বা। সেটা অবশ্য ফরচুন বরিশালের জার্সি গায়ে। এবার এসেছিলেন রংপুর রাইডার্সের ডাকে। তবে ঢাহা ফেইল করেছেন বলা যায়। আট ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে করেছেন ১৪১ রান। ১৭ গড়ের সাথে ১২৫ স্ট্রাইক রেটটা মায়ার্সসুলভ নয়। বল হাতে আট ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র এক উইকেট, আটের উপরে রান দিয়েছেন। তাই তো মায়ার্সকে মোটাদাগে ব্যর্থ বলায় যায়।

মেহেদী হাসান মিরাজ(অধিনায়ক)

ব্যাটে ব্যর্থ, বল হাতেও নেই বলার মতো কিছু, অধিনায়ক হিসেবেও অবদানটা যতসামান্য। তাই তো ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। যে আসা নিয়ে তাঁকে দলে ভেড়ানো হয়েছিল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে তাঁর ছিটেফোটাও মেটাতে পারেননি তিনি।

নয় ইনিংসে ব্যাট করে রানসংখ্যাটা কাটায় কাটায় ১০০। স্ট্রাইক রেট ১০০ নিচে। টি-টোয়েন্টিতে যা অপরাধ বইকি। বল হাতেও হতাশা ছড়িয়েছেন আসরজুড়ে। ১২ ম্যাচে ছয় উইকেট ইকোনমি রেট নয়। সিলেট টাইটান্স প্লে-অফ খেললেও সেটা দলগত পারফরম্যান্সের ফসল, মিরাজের কৃতীত্বটা যে নেই এখানে।

নুরুল হাসান সোহান 

 এবারের আসরে ব্যর্থতার ভারে নুইয়ে গেছেন নুরুল হাসান সোহান। এমনকি মাঝপথে ছাড়তে হয়েছে দলের অধিনায়কত্ব। আট ইনিংসে ব্যাট হাতে রান করেছেন মাত্র ৪৮। স্ট্রাইক রেটটাও ৮৪। রংপুর রাইডার্সের মতো হেভিওয়েট দলের নেতৃত্ব দেওয়া একজন ক্রিকেটারের কাছে এমন পারফরম্যান্স হতাশারই বটে।

এস এম মেহরব

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলটিতে খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়ই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাঁর মধ্যে এস এম মেহরব একজন। নয় ম্যাচে পাঁচ ইনিংস মিলিয়ে রান সংখ্যা মাত্র ২৭। বল হাতে ছয় ইনিংসে চার উইকেট। যতটা আশা করা হয়েছিল তাঁকে নিয়ে তাঁর ছিটেফোটাও মেটাতে পারেননি তিনি।

আবু হায়দার রনি

 এবারের আসরে চট্টগ্রাম রয়্যলসের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন আবু হায়দার রনি। দল ফাইনালে খেলেছে ঠিকই তবে রনি ছিলেন ব্যর্থতার নিচে। ছয় ম্যাচে আট ইকোনমিতে চার উইকেট নিয়েছেন।  অভিজ্ঞ এই বোলারের কাছে ছিল না ধারাবাহিকতা। লাইন-লেন্থের অনিয়ম আর ডেথ ওভারে রান বিলানো তাকে ঠেলে দিয়েছে ফ্লপ তালিকায়।

তাসকিন আহমেদ

সবচেয়ে বড় নাম, আর সবচেয়ে বড় হতাশা। তাসকিন আহমেদের এ আসরের পারফরম্যান্সকে এবাবেই বিশেষায়িত করা যায়। গত মৌসুমে ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। আর এবারের মৌসুমে সাত ম্যাচে মাত্র সাত উইকেট। ইকোনমিও নয়ের কাছাকাছি।

মোহাম্মদ আমির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় তারকা হলেও বিপিএলে সেই আমিরকে পাওয়া যায়নি। সুইং, ভ্যারিয়েশন—সবই যেন হারিয়ে গেছে। ছয় ম্যাচ খেলে নিয়েছেন মাত্র চার উইকেট। আমিরের মতো অভিজ্ঞতা তারকার কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স হতাশারই বটে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link