ঘরের মাঠই কি ভারতের সবচেয়ে বড় ফাঁদ?

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ স্বাভাবিকভাবেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের কাঁধে প্রত্যাশার ভার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। টুর্নামেন্টের বড় একটি অংশই অনুষ্ঠিত হবে নিজেদের দেশে। কাগজে-কলমে এটি বিশাল 'হোম অ্যাডভান্টেজ'। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির গ্যাড়াকলে পড়লে এই সুবিধাই ভারতের জন্য বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হতে পারে। 

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ স্বাভাবিকভাবেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের কাঁধে প্রত্যাশার ভার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। টুর্নামেন্টের বড় একটি অংশই অনুষ্ঠিত হবে নিজেদের দেশে। কাগজে-কলমে এটি বিশাল ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির গ্যাড়াকলে পড়লে এই সুবিধাই ভারতের জন্য বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

ভারতের ম্যাচগুলো হবে পাঁচটি ভিন্ন ভেন্যুতে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স, চেন্নাইয়ের এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। ঘরের মাঠ হলেও, এই পাঁচটি মাঠের চরিত্র একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে রাতে নামলেই যেন অন্য রূপ দেখা দেয়। কুয়াশা পড়লে ভিজে যায় বল, ব্যাটে আসে সুন্দরভাবে। চেজ তখন সহজ হয়ে ওঠে। ভারতের আসল প্রশ্ন এখানে রান তোলা নয়, রান ধরে রাখা।

ইডেন গার্ডেন্সের পিচ যেন অভিমানী কোনো এক নারীর মন। এই ভালো, তো এই খারাপ। কোনো রাতে ব্যাটারদের স্বর্গ, কোনো রাতে আবার হয়ে ওঠে ধীরগতির উইকেট। এটা কি দুই শতাধিক রান তোলার উইকেট নাকি দেড়’শ রানেই মিলবে সাফল্যের দেখা, ম্যাচের পরিস্থিতিই বলে দেয় এই গল্প।তাই মাঝের ওভারগুলো এখানে ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের এই টি-টোয়েন্টি যুগে চেন্নাইয়ে ম্যাচ জেতা মানে  ধৈর্যের পরীক্ষায় পাস করা। অভিষেক শর্মা কিংবা সুরিয়াকুমার যাদবদের মারকুটে ব্যাটিং এখানে নিমেষেই থমকে যেতে পারে।এখানে বল খুব বেশি ঘোরার দরকার হয় না, একটু থামলেই ব্যাটারদের দম বন্ধ হতে শুরু করে।

ভারতের চ্যালেঞ্জ এখানে কম্বিনেশন বাছাই। মাঝের ওভার নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট স্পিন দরকার, আবার এমন ব্যাটিং গভীরতাও চাই যাতে দল নিজেই ফাঁদে না পড়ে।

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম বরাবরই বোলারদের জন্য বড্ড নিষ্ঠুর। ছোট বাউন্ডারি আর দ্রুত আউটফিল্ডে ব্যাটারদের রীতিমতো শ্বশুরবাড়িতে নব্য জামাইয়ের মতো আপ্যায়ন করা হয়। এখানে ভারতীয় বোলারদের দরকার ওয়াইড ইয়র্কার, হার্ড লেংথ, আর ব্যাটসম্যান কে বোকা বানানো কার্যকরি স্লোয়ার।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম আবার এক অর্থে বেশ রহস্যময়। কখনো হাই স্কোরিং, কখনো আবার পেস অফ উইকেট। কুয়াশা ম্যাচের শেষ দিকে দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে। সাথে আছে বিশাল স্টেডিয়ামে বিপুল জনসমাগমের মানসিক চাপ।

এখানে ভারতের জন্য দরকার নমনীয় পরিকল্পনা। একজন গতিসম্পন্ন পেসার, আবার একজন পেস অফ বিশেষজ্ঞ, আর এমন স্পিনার যিনি বড় বাউন্ডারি ব্যবহার করতে পারেন। এখানে দুই ধরনের পরিকল্পনা হাতে রাখা জরুরি ২০০ প্লাস ম্যাচের জন্য এক রকম, ১৬০-১৮০ লড়াইয়ের ম্যাচের জন্য অন্য রকম।

 

বাইরে থেকে হোম অ্যাডভান্টেজের বুলি আওড়ানো হলেও ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজ অবধি কোনো স্বাগতিক দলই শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় নি।

স্বাগতিক দেশ হওয়ার পাশাপাশি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ থাকবে অভিষেক-বুমরাহদের ওপর। সেই চাপ সামলে ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়ার প্রত্যাশাই থাকবে ভারতীয় সমর্থকদের।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link