এই তো সেদিন, টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে নবাগত ইতালি। আর সেই ইতালির ডাগআউটেই ছিলেন একজন আইরিশ। আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি কেভিন ও’ব্রায়েন ইতালির জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ।
হ্যাঁ, ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করা লাল চুলের সেই ও’ব্রায়েন। আর সেখানেই বাজে একটা আক্ষেপের বিউগল। আয়ারল্যান্ড যেখানে এগিয়ে, বাংলাদেশ ঠিক সেখানেই পিছিয়ে।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতালি জয় পেয়েছে চার উইকেটের। আর সেই জয়ের ছকটা কষতে নিশ্চয়ই সাহায্য করেছিলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ব্রায়েন তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের যতদিন আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন, তার সিংহভাগ সময় জুড়েই দেশটি ছিল সহযোগী দেশ। অথচ বাংলাদেশ পূর্ণ সদস্য পদ লাভের সময়কাল প্রায় তিন দশক হতে চলল।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার হতে পারেননি বিশ্বমানের কোচ। এমন নবাগত কোন জাতীয় দলও বাংলাদেশের কাউকে নিজেদের কোচিং প্যানেলে যুক্ত করেনি। আর এখানেই বরং আরও পিছিয়ে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের মান। আয়ারল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটাররা, ক্রিকেটের সাথে যুক্ত থাকতে চান মাঠের বলয়ের ভেতরে থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ধ্যানধারণায় থাকে রাজনীতি কিংবা সংগঠনিক পদমর্যাদা।
কেউ মাঠে নেমে, রোদে পুড়ে পেতে চান না বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি। বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে যে কোচিং ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার নজির নেই- বিষয়টি তেমন নয়। তবে তারা কেউই বিশ্বমানের হয়ে উঠতে পারছেন না। তারা কেউই দেশের গণ্ডি পেরুতে পারছেন না। কয়েকজন অবশ্য বিদেশ-বিভূঁইয়ে ক্রিকেট দীক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তবে তার বিস্তৃতি একাডেমি পর্যায়েই সীমিত।
বাংলাদেশ মধ্যম সারির দল থেকে প্রথম সারির দলে পরিণত হতে চাইলে, সাবেক খেলোয়াড়দের ক্রিকেট উন্নয়নের মাঠ পর্যায়েই কাজ শুরু করতে হবে। নিজেদের সামর্থ্যকে বিশ্ব পরিসরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নতুবা একই বৃত্তের ভেতর ঘুরপাক খেয়েই দিন কেটে যাবে। অন্তত আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ ব্রায়েনের উদাহরণে যদি সাবেক ক্রিকেটারদের টনক নড়ে!












