একটা সময় বেশ ফলাও করেই প্রচার হত, বাংলাদেশ দল নাকি স্পিন নির্ভর। কোন কোন ক্ষেত্রে অবশ্য এ কথা সত্য। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তালিকায় সবার উপরে যদিও বা একজন স্পিনার রয়েছেন। তবে পরবর্তী তিনটি আসন পেসারদের দখলে।
সাকিব আল হাসান, তাকে এড়িয়ে বাংলাদেশের পক্ষের কোন ক্রিকেট ইতিহাস খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ব্যাট হাতেও তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। উইকেট শিকারেও তার সাথে বাকিদের আছে ভীষণ দূরত্ব। ৪১ ইনিংসে বল ছুড়ে, ৫০ খানা উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন সাকিব। ৬.৮৬ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন। পাঁচ উইকেটের দেখা না পেলেও, চার উইকেট বাগিয়েছেন তিনবার।
এরপরে পেসারদের দাপটের শুরুটা মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। ১৭.৫ স্ট্রাইকরেটে ২২ ইনিংসে ২৮টি উইকেট গেছে মুস্তাফিজের পকেটে। যে মুস্তাফিজের ঘটনা প্রবাহেই আজ বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে দূরে। এর দায়ভার অবশ্য তার নয়। যেমনভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সফলতা না আসার জন্য পুরোপুরি দায়ী নন বোলাররা।

কেননা মুস্তাফিজের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদও উইকেট শিকার করেছেন পাল্লা দিয়ে। ২১টি বিশ্বকাপ ইনিংসে তাসকিনের উইকেট সংখ্যা ২৬টি। তার স্ট্রাইকরেট ১৭.৩। ইকোনমি রেটটাও তার বেশ ভাল ৬.৫৮। এরপরের স্থানে ডানহাতি পেসার আল আমিন করছেন অবস্থান।
তার ঝুলিতে আছে ১৮ খানা উইকেট। ১৩ ইনিংসে বল করা আল আমিনের স্ট্রাইকরেট সেরা পাঁচে থাকা সবার চাইতে ভাল- ১৪.৫। এরপর পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বা-হাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। ১৫ ইনিংসে ১৬টি উইকেট শিকার সমর্থ্য হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। তার ইকোনমিও ছিল সাতের নিচে। ২০.১ স্ট্রাইকরেটে তিনি উইকেট তুলেছেন প্রতিপক্ষের।
কার্যত বোলাররাই দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ফলাফলে অধিক প্রভাব ফেলেছেন। পরিসংখ্যানের পাতায়ও বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। তবে একটা ইউনিটের পারফরমেন্সের ভরসায় আর যাই হোক, বৈশ্বিক মঞ্চে সফলতা মেলে না। তাইতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফলতা তিন জয়।












