মাঠের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফলাফলটা কখনো জয়, কখনো হার কিংবা কখনো ড্র – কিন্তু গ্যালারির বাইরের এক অসম লড়াইয়ে হার মানছেন না ফ্রাঙ্ক আইলেট। বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের কাছে তিনি এখন পরিচিত ‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্র্যান্ড’ নামে। তবে তার এই পরিচিতির কারণ কোনো গোল বা এসিস্ট নয়, বরং তার মাথার অবিন্যস্ত একরাশ চুল, যা গত ৫০০ দিন ধরে কাঁচির ছোঁয়া পায়নি।
গল্পটা শুরু হয়েছিল পাঁচ অক্টোবর, ২০২৪ সালে। প্রিয় দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে ফ্রাঙ্ক আইলেট এক অদ্ভুত শপথ নিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যতক্ষণ না তার প্রিয় দল সব ধরণের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা পাঁচটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পাচ্ছে, ততক্ষণ তিনি নাপিতের দোকানে পা রাখবেন না।
অবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে তার সেই চ্যালেঞ্জে আশার বাণী শুনিয়েছিল ম্যানচেস্টারের এই দলটি। টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে তারা যখন পঞ্চম জয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখনই বাঁধ সাধলো ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে আজ জয়ের বিকল্প ছিল না ফ্রাঙ্কের কাছে।

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস! ম্যাচের লম্বা সময় পিছিয়ে থাকার পর শেষ সময়ে বেঞ্জামিন সেস্কোর গোলে কোনোমতে ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড।
দল হারেনি ঠিকই, কিন্তু ফ্রাঙ্কের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘টানা পাঁচ জয়’ আর দেখা হলো না। ড্রয়ের সাথে সাথেই তার চুল কাটার সেই কাউন্টডাউন বা ঘড়ির কাঁটা আবারও শূন্যে ফিরে গেল।
ফ্রাঙ্ক জানিয়েছিলেন, তার দল যেদিন টানা পাঁচ জয় স্পর্শ করবে, সেদিন তিনি তার এই দীর্ঘ লালিত চুল কেটে কোন এক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান যে ফর্ম, তাতে আইলেটের এই প্রতীক্ষা কবে শেষ হবে তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মনেও রয়েছে সংশয়।
অনেকের মতে, এই অপেক্ষা হয়তো দুই-চার বছরও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবুও ফ্রাঙ্ক অবিচল, তিনি এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন প্রিয় দলটির ওপর।











