পালেকেল্লের বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল অস্ট্রেলিয়ার। ইতিহাসের দ্বিতীয় দফা গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ অজিরা। সমীকরণ আগে থেকেই ছিল ভীষণ জটিল। তবে বৃষ্টির পানি ধুয়ে নিয়ে গেল সমস্ত আশা ভরসা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটা মাঠে গড়ালে সৃষ্টি হলেও হতে পারত নতুন কোন সম্ভাবনা।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে অধীর আগ্রহে জিম্বাবুয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে নিজেরাই নিজেদের ঠেলে দিয়েছে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। রানরেটের হিসেবেই দলটি ছিল ভীষণ পিছিয়ে। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তাদের জিততে হতো বড় ব্যবধানে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়েকে হারতে হতো নিজেদের দু’টো ম্যাচে।
শ্রীলঙ্কার যেই ছন্দ, তাতে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ের জয়ের সম্ভবনা বেশ ক্ষীণ ছিল। আয়ারল্যান্ডই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বাজির ঘোড়া। জিম্বাবুয়েকে তারা হারিয়ে দেবে তেমনটিই নিশ্চয়ই ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশা। কিন্তু বৃষ্টি অজিএদের সকল প্রত্যাশাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তাবড় তাবড় সব ব্যাটার থাকা পরও এমন ভরাডুবি সত্যিই বেশ হতাশাজনক। ২০২১ সালেও এই দলটা হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। সেই দলটা পাঁচ বছরের মধ্যে কি-না গ্রুপেই টুর্নামেন্ট থেকে বাহিরে! গতবার মিচেল মার্শের অধীনে তাও গত আসরে সুপার এইট অবধি পৌছেছিল অস্ট্রেলিয়া। সুপার এইটে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় হয়েছিল। এবার তো একেবারেই লেজে গোবরে পরিস্থিতি।
অথচ প্রায় প্রতিটা বৈশ্বিক আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার ধরা হয় এই অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে যেন দৃশ্যপট একেবারেই উল্টো। দশটি আসরের মধ্যে স্রেফ একবার তারা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। দুইবার সেমিতেই আটকে গেছে তাদের যাত্রা। আর একবার শিরোপা জয় ছাড়া আর কেবল একবারই খেলেছে ফাইনাল।
কিন্তু ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাজারে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের কদর নেহায়েত কম নয়। অজি গৌরবের ইতিহাসও তো মন্দ নয়। তবুও কেন বারবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমন ধরা খাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া? সে বিষয়ের একটা সমাধান নিশ্চয়ই খুঁজতে চাইবে অজিরা।












