একটা জয়ের অভিযাত্রা। অবশেষে নেপাল পেল সেই কাঙ্খিত জয়। যে জয়ের শেরপা হয়ে নেপালকে পথ দেখিয়েছেন দীপেন্দ্র সিং আইরি। যে ম্যাচটা স্কটল্যান্ড ভেবেছিল অনায়াসে জিতে যাবে সেই ম্যাচটাকে ছোবল মেরে কেড়ে নিলেন দীপেন্দ্র। অন্তত এবারের বিশ্বকাপ থেকে একটি জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে এভারেস্টের কোলে ফেরত যাবে নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দল।
প্রথমে ব্যাট করে নেপালের জন্য ১৭১ রানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয় স্কটল্যান্ড। মাইকেল জোন্সের ৭১ রানের ইনিংসটির কল্যাণে এত বড় এক সংগ্রহ জমা হয়েছে স্কটিশদের স্কোরবোর্ডে। প্রতি আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে নেপাল তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে সাত খানা উইকেট।
এই মোট দ্বিতীয় দফা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসেছে নেপাল। আগেরবার একটি জয়ও ঝুলিতে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে, নিজেদের খেলা চার ম্যাচের চারটিই হেরেছিল তারা। এদফা ভাগ্য সুপ্রসন্ন হল বটে। তবে তার পেছনে দীপেন্দ্রর কীর্তি আছে।

উদ্বোধনী জুটি থেকে নেপাল তুলে ফেলে ৭৪ রান। তবে সেই জুটিতে আক্ষরিক অর্থে ছিল না জয়ের তাড়না। দুই ব্যাটার মিলে খেলেছেন ৫৫ বল। ১৭১ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মোটেও সেই জুটিকে যুতসই বলবার উপায় নাই। দীপেন্দ্র যখন বাইশ গজে এলেন, তখন জয়ের পাল্লা ঝুকে গেছে স্কটল্যান্ডের দিকে। যদিও ওভার পর্যাপ্ত বাকি ছিল।
৫৫ বলে ৮৪ রানের সমীকরণ নেপালের জন্য তো অসাধ্য সাধন- এমনটাই ভেবেছিল অনেকেই। কিন্তু দীপেন্দ্র বিশ্বাস রেখেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল স্থির। তিনি সেই লক্ষ্যের দিকেই অগ্রসর হলেন দুর্বার গতিতে। চারটি চার ও তিন ছক্কার ইনিংসটিতে তিনি দেখিয়েছেন জয়ের সেই তাড়না, মাথা উঁচু করে বাড়ি ফেরার তীব্র আকাঙ্খা। ছোট দল বলেই যে লড়াই করতে জানে না, সেটাকে তো ভুল তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
তবে পরাজয় দিনশেষে পরাজয়। বীরত্বের স্থায়িত্বকাল রাত গড়িয়ে পরদিন সকাল। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় দীপেন্দ্র থেকে যেতে চাইলেন। যতদিন নেপালের ক্রিকেটের যাত্রা থাকবে চলমান, তিনি ততদিনই নিজের একটা অস্তিত্বের ছাপ ফেলে যেতে চাইলেন। ২৩ বলে ৫০ রানের ইনিংসটিতে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে নেপালের প্রথম জয়ের কাব্য লিখলেন। এই বীরত্বের স্থায়িত্ব অনন্তকাল।












