বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওপেনিং স্লটটি যেন এক ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা। জার্সি কিংবা বলের রঙ বদলালেও, বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের সমস্যাটা যেন কোনক্রমেই পিছু ছাড়ে না। তামিম ইকবালের সময়টাতেও তাঁর পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই অপর প্রান্তে খোঁজা হয়েছে একজন যোগ্য ওপেনারকে।
একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেও যেন ওয়ানডেতে যোগ্য একটা ওপেনিং জুটি দেখার সৌভাগ্য হয় না লাল-সবুজ সমর্থকদের। বিগত দুই বছরে ২০টি ওয়ানডেতে মোটে আটজন ব্যাটার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ওপেনিং করেছেন।
যদিও পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, শেষ বিশ ম্যাচে নাইম শেখ, এনামুল হক বিজয় কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তরা ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটি করে ম্যাচে। অন্যদিকে, লিটন দাস দুই ম্যাচে ওপেন করতে নেমে ক্যারিয়ারে একটি রানও যোগ করতে পারেননি।

গত তিন বছর ধরে ওপেনিংয়ের রাডারে নিয়মিত নাম তানজিদ হাসান তামিম। টি-টোয়েন্টিতে পারফর্ম করলেও একদিনের ক্রিকেটটায় যেন নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না তানজিদ। ওয়ানডেতে ২৭ ইনিংস খেলতে নেমে মাত্র ২০.৬৭ গড়ে ৫৫৮ করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক আফগানিস্তান সিরিজেও দুই ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র দশ রান।
অন্যদিকে, সৌম্য সরকার দলে আসা-যাওয়ার মিছিলে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজের প্রয়োজনীয়তা জানান দিয়েছেন। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে লুফে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।
দলে রয়েছেন আরেকজন ওপেনার সাইফ হাসান। এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে তার ওয়ানডে দলে অন্তর্ভুক্তি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৮০ রানের ইনিংসটি বাদ দিলে তার ব্যাটে ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব।
আলোচনায় রয়েছে পারভেজ হোসেন ইমনও। আসছে বছরই দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগেই ওপেনিংয়ের এই সমস্যা দূর করতে না পারলে বরাবরের মতোই আবারও বিশ্বমঞ্চে গিয়ে ওপেনিং জটিলতায় ভুগতে হবে বাংলাদেশকে।











