ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী বিহারের ছোট্ট গ্রাম কুঠি। ধুলোময় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একটা ছেলে স্বপ্ন দেখত ক্রিকেট ব্যাট হাতে বাইশ গজে নামার। তবে সময়ের করাঘাতে সেই স্বপ্নটা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। এরপর এক সংগ্রাম, বাস্তবতার সাথে অসম লড়াই, ফিকে স্বপ্নটা রঙিন করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা। শোয়েব খান পেরেছেন, কুঠি গ্রামে বসে আঁকা স্বপ্নকে বাস্তব করতে।
স্বপ্নের হাত ধরে পৌঁছেছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। দিল্লিতে কানাডার বিরুদ্ধে মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেই তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেন। এর ঠিক তিন দিন পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস। দল হেরেছিল ঠিকই তবে নিজের জাত চিনিয়েছেন শোয়েব, পেয়েছেন সংগ্রাম শেষের সাফল্য। তাঁর জন্য এটি কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যেন বিজয় নিশান তুলে ধরার গল্প।
শোয়েবের যাত্রা সহজ ছিল না। ২০১৪ থেকে ২০১৯, পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে খেলেছেন। ইচ্ছে ছিল রঞ্জি ট্রফি খেলবেন, ভাগ্য সহায় হয়নি তখন। এরপর পা রাখেন নতুন জীবনে, ২০২১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবনে নতুন এক আসায় ভারসাম্য রাখতে হয়েছে। সংসার চালাতে হবে, তাই উপার্জনের পন্থা হিসেবে বেছে নেন নয়টা পাঁচটা চাকরি। তবে স্বপ্ন দেখা থামাননি, কাজ শেষে ঠিকই ঢু মেরেছেন ক্রিকেট পাড়ায়। সন্ধ্যাকালীন সময়টায় সঙ্গী হয়েছে ক্রিকেট ব্যাট।

এরপর বদলে যাওয়ার গল্প, জীবন যা কেড়ে নেয় তাঁর থেকে কখনো কখনো দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেয়। অক্টোবর ২০২৫ সালে আরব আমিরাতের ওয়ানডে দলে ডাক পান শোয়েব। এরপর টি-টোয়েন্টি অভিষেক, ইন্ডিয়া দলের বিরুদ্ধে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের মঞ্চ। নিজের স্বপ্ন যেমন বাস্তব হয়েছে তেমনই প্রতিটি ছক্কা, প্রতিটি রানের সঙ্গে যেন কুঠির প্রতিটি ছেলে-মেয়ের চোখে জ্বলে উঠেছে স্বপ্নের দীপ।
কোভিড মহামারির সময় বড় ভাই আলতামাশের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি গড়েছিলেন কুঠি কিংস ক্রিকেট ক্লাব। পরিবারিক জমিতে তৈরি ক্লাবটি এখন গ্রামের যুবকদের জন্য স্বপ্নের পথপ্রদর্শক। তিনজন তরুণ ইতিমধ্যেই আরব আমিরাতে খেলেছেন ও চাকরি পেয়েছেন। বর্তমানে ১৫ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শোয়েব স্বপ্ন একা দেখতে চান না, সবাইকে নিয়েই দেখতে চান।
কুঠির মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর গল্প প্রমাণ করে, যদি বিশ্বাস থাকে, অধ্যবসায় থাকে, তবে স্বপ্ন বড় হতে পারে, জীবন মহৎ হতে পারে।












