দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ভারত শেষমেষ ব্যর্থ হয়েছে, সেটাও আবার দৃষ্টিকটু ভাবেই। গুঁড়িয়ে গেছে মাত্র ১১১ রানেই। এই চেজের সময়টাতে একজনের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ভারত। চেজ মাস্টার বিরাট কোহলি যে নেই এই দলে, অপূরণীয় শূন্যতা রেখে গেছেন তিনি, তা কি আর পূরণ করা সম্ভব? পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ভারতের হাহাকার আরও বাড়বে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ১৫০-এর বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে তিনবার, আর ওই তিন ম্যাচেই ব্যাট হাতে দলকে আগলে রেখেছিলেন বিরাট কোহলি। তিন ম্যাচেই ম্যাচসেরা, শুধু তাই নয়, ম্যাচ জিতিয়েই তবেই মাঠ থেকে উঠেছেন, অর্থাৎ অপরাজিত ছিলেন তিনটিতেই। ভাবা যায়!
২০১৪ সালে সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, লক্ষ্য ছিল ১৭৩। ক্যালকুলেটর নিয়ে ব্যাট করতে নামা কোহলি ৭২ রান করেছিলেন, দলও জিতেছিল অনায়াসে। ২০১৬ সালে মোহালি মিশন, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া আর টার্গেটটা ১৬১। কোহলি আর পাঁচটা দিনের মতোই নামলেন, ৮২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতালেন।

২০২২ সালের মেলবোর্নে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। তর্কসাপেক্ষে কোহলির ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচগুলোর মধ্যে একটি। ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছিল দল, জয়ের আশা কার্যত শূন্যের কোটায়। সেখান থেকেই তো এক রাজা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন, হারিয়ে ফেলা রাজ্যকে পুনরুদ্ধার করলেন একা হাতে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের উচ্ছ্বাস এক লহমায় শেষ করে দিয়ে খেললেন অবিস্মরণীয় সেই ৮২ রানের হার না মানা ইনিংস। ব্যস, অসম্ভব থেকে উঠে এসে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
পরিসংখ্যানের খাতাটা আরও বিস্তৃত করা যাক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এখন পর্যন্ত ৬-এর বেশি রিকোয়ার্ড রানরেটে মোট ৯ বার রান তাড়া করে জিতেছে। এই ৯ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই ব্যাট হাতে ছিলেন কোহলি। এর মধ্যে ৭টিতে করেছেন পঞ্চাশের বেশি রান, ৭ ইনিংসে অপরাজিত থেকেছেন, আর ৫ বার হয়েছেন ম্যাচসেরা।
আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের এখন একটাই কথা চলে, প্রতিটা বল মারতে হবে। এই তাড়না থেকেই তারা হারিয়ে ফেলেছে এক মেশিনকে, যিনি হিসাব কষে ম্যাচ জেতাতেন। তিনি ভালো মতোই জানতেন ক্রিকেটে সব বল মারার নয়, ভালো বলটা সমীহ করতে হয়, সিঙ্গেল-ডাবলে ম্যাচটাকে ধরে রাখা যায়। আজ বিরাট নেই, ভারতের দলে তাই বিরাট শূন্যতা।












