বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে জাত মিডল অর্ডার ব্যাটারের অভাব। সেই অভাব পূরণের ভাবনায় থাকছেন আকবর আলী। তাকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এই দুই ব্যাটারের মধ্যে দ্বৈরথে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে বিসিএল ওয়ানডের প্রথম দিনে দুই জনের হাঁকানো সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশ জাতীয় দল সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই সিরিজে দলের মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে এক তাওহীদ হৃদয় ছাড়া বাকি প্রায় প্রত্যেকেই মূলত ফিনিশার। জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান- এরা মূলত ছয় কিংবা সাত নম্বর ব্যাটার। অতএব বাংলাদেশের ঘাটতির জায়গা পাঁচ নম্বর।
পাঁচ নম্বরে প্রয়োজন একজন স্থিতিশীল ব্যাটার। যিনি কি-না স্পিনটা সামলে নেবেন, রানের চাকা সচল রাখবেন ও উইকেট পতন ঠেকাতে সক্ষম হবেন। এমন রোলের জন্য শামীম কিংবা জাকের কেউই আসলে যুতসই নন। যেহেতু লক্ষ্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, সেহেতু নড়বড়ে মিডল অর্ডার নিয়ে উড়াল দেওয়ার আগে বাজিয়ে দেখা উচিত, হাতে থাকে সমস্ত রসদ।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ জাতীয় দলের রাডারে থাকা মিডল অর্ডার ব্যাটার রয়েছেন, আকবর আলী, আফিফ হোসেন ধ্রুব, ইয়াসির আলী চৌধুরি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। এদের মধ্যে অঙ্কন ওয়ানডের জন্য বড্ড বেমানান। তার স্ট্রাইকরেট ঘুরপাক খায় ৭০ এর ঘরে। আধুনা ক্রিকেটের এমন স্ট্রাইকরেট টেস্টেও প্রশ্নের উদ্রেক ঘটায়।
অন্যদিকে ইয়াসির আলী চৌধুরি- তার প্রত্যাশা পূরণে হয়েছেন ব্যর্থ। ধারাবাহিকভাবে তিনি যে পারফরমও করেছেন- সেটা বলবারও উপায় নেই। অতএব আপাতত তাকে ঘিরে আলোচনা হওয়ার বিশেষ কোন কারণ নেই। রইলেন বাকি আকবর ও আফিফ। সেই দ্বৈরথেও আকবর বরং একটু এগিয়ে থাকছেন।
বিসিএল ওয়ানডেতে আকবর নর্থ জোনের হয়ে শতক হাঁকিয়েছেন। পাঁচ নম্বরে নেমে করেছেন ৮৭ বলে করেছেন ১১১। তার খেলা সর্বশেষ চার ওয়ানডে ইনিংসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় শতক। এর আগে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে তিনি ১১০ বলে করেছিলেন ১৩১ রান। এরপর নানান ব্যানারে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও, ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি আকবরের। কিন্তু তিনি পারফরম করেছেন সর্বত্র।

বিশেষ করে এনসিএল টি-টোয়েন্টি ও এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে। আকবরকে এগিয়ে রাখার কারণ তার স্পিন বোলিং সামলানোর দক্ষতা।আফিফও যে স্পিনটা খারাপ খেলেন- তা নয়। তবে ডানহাতি অফস্পিনে আফিফের দূর্বলতা চোখে পড়ে ইনকামিং ডেলিভারি গুলোতে। তাছাড়া আকবরের দূর্বলতা ছিল পেসারদের বিপক্ষে। সে দূর্বলতাও কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন আকবর।
তবে আফিফের অভিজ্ঞতা হয়ত তাকে এগিয়ে রাখার চেষ্টাই করবে। তাছাড়া বিসিএলে সাউথ জোনকে জেতানো ম্যাচে তিনি যেভাবে দৃঢ়চিত্তে রানতাড়া করেছেন- তা বরং তার মানসিক পরিপক্কতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। ৮৬ বলে ১০০ রান করে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। অতএব এই দুই ব্যাটারের মধ্যে কাওকে যে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে রাখা সম্ভব- তা নয়।
পরিশেষে বলা যায়, ফিনিশারদের উপর মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া বোকামি। হাতের নাগালে দুইজন জাত মিডল অর্ডার ব্যাটার রয়েছেন। তাদের সামর্থ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড হতে পারে এবারের বিসিএল ওয়ানডে। অতএব বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচকদের একটু নজর তীক্ষ্ম করা প্রয়োজন। প্রদীপের নিচে অন্ধকার নামক বাংলা প্রবাদের শিকার না বনে যাক আকবর অথবা আফিফ দু’জনের কেউ।












