বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম সেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে একাই মাটিতে নামিয়ে আনলেন হ্যারি ব্রুক। ধুলিসাৎ করে দিলেন প্রতিপক্ষের সব স্বপ্ন। বিপাকে পড়া ইংলিশ শিবির বাঁচাতে এদিন ছুটে এসেছিলেন তিন নম্বরে। এরপর থেকে যোগ্য সেনাপতির ন্যায় রুখে দিয়েছেন সব বিপদ। খাদের কিনারা থেকে ইংল্যান্ডকে তুলে এনে পাঠিয়ে দিয়েছেন সেমিফাইনালের পথে।
ক্রিকেটের সব ঐশ্বরিক ক্ষমতা বিধাতা দিয়েছেন ব্রুককে। সময়ের সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের তকমা গায়ে জড়িয়ে আছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর ব্যাট যেন বোবা হয়ে ছিল এতদিন। আরও ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করলে হয়তো অপেক্ষায় ছিল কাঙ্খিত এক সময়ের। সেটাও পেয়েও গেলেন তিনি।
সাধারণত পাঁচ নম্বরেই ব্যাট হাতে নামেন ব্রুক। তবে দৃশ্যপাট ভিন্ন কিছু দাবি করল। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিল সল্ট ফিরে গেলে সাজঘরে। বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে তিন নম্বরে হাজির হলেন। যেন অন্ধকার ফুরে বেরিয়ে এল এক আলোর মশাল।

একপাশে উইকেট ঝরঝর করে পড়ছে, অন্যপাশে সময়, উইকেট কিংবা ভয়ংকর হয়ে ওঠা পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিজের মতো করে গল্পের স্ক্রিপ্ট লিখলেন। উইকেট বিরূপ আচরণ করলেও দানবীয় রূপ ধারণ করা ব্রুক এসবে थोড়াও কেয়ার করেননি।
ব্রুক ব্যাট করবেন, আর স্কোরবোর্ডে রানের চাপ থাকবে সেটা অসম্ভব বস্তুই। তাই তো ৫৮ রানে চার উইকেট হারানো ইংল্যান্ড এক মুহূর্তের জন্য রান তুলতে গড়মিল করেনি, ব্রুক করতে দেননি।
ধংসস্তুপে দাঁড়িয়ে ২৮ বলে ফিফটি হাঁকিয়েছেন। কাজ তখনও শেষ হয়নি। তাই তো বাকিটা সময় একেবারে হিসাব কষে ব্যাট করেছেন। লড়াইটা যেন ব্রুক বনাম পাকিস্তান। দুইশো স্ট্রাইক রেটে শতক হাঁকালেন। ১০ চার আর চার ছক্কা দিয়ে সাজানো ইনিংসটায় শেষ করে দিল পাকিস্তানের স্বপ্ন। আর ওটাই সুগম করল ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের পথ।












