গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে দুয়োধ্বনি, মোহাম্মদ মিঠুন বোধহয় সহ্যশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তেড়ে-ফুঁড়ে চলে গেলেন গ্যালারির দিকে। যখন ফিরে আসছেন মুখে তখন হাসির রেখা। বিসিএলের দ্বিতীয় দিনে এমন ঘটনার দেখা মিলল, সেই সঙ্গে আরও একটা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, মিঠুনের কি এটাই প্রাপ্য ছিল? একটু সুযোগ পেলে আর পাওয়া সুযোগ কাজে লাগালে তিনিই যে হতে পারতেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের কান্ডারি। তখন নিশ্চয় জয়ধ্বনি ভেসে আসত গ্যালারির প্রতিটা কোণ থেকে।
বিসিএল ওয়ানডেতে টানা দুই ম্যাচে ফিফটির দেখা পেয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে সাউথ জোনের বাকি ব্যাটাররা আত্মাহুতি দিলেও রান এসেছে মিঠুনের বিশ্বস্ত ব্যাটে। মিডল অর্ডারে যে দলটার প্রাণভোমরা তিনি। তবে এই ‘প্রাণভোমরা’ শব্দটা জাতীয় দলের মিঠুনের পাশেও যে পড়তে পারত।
ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নেই একটা শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল বাংলাদেশ দলে একজন বিশ্বস্ত সৈনিক আসতে চলেছে। তবে কথায় আছে যত গর্জায় তত বর্ষায় না। মিঠুনের ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই হয়েছে।

ছিলেন ওপেনার, কালের বিবর্তনে সামনে আসে অনেক অপারগতা। নতুন বল সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। যদিও ওয়ানডে অভিষেকটা হয়েছিল তিন নম্বরে। তবে থিতু হতে পারেননি ওই নতুন বলের বিপরীতে রুখে দাঁড়াতে না পারার কারণে।
স্পিনটা ভালোই সামলাতে পারতেন, নিজেকে নামিয়ে আনলেন মিডল অর্ডারে। ওয়ানডে খেলেছেন ৩৪টি। কিছু ম্যাচে দলকে জেতানোর কাজটা করেছেন। তবে ধারাবাহিকতার অভাবটা বোধকরি একটু বেশিই ছিল। যদিও সেটা মেনে নেওয়ার মতো। তবে সেই সময়টাতে প্রয়োজনের তুলনায় সুযোগটা পাননি মিঠুন।
সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম—মিডল অর্ডারের জায়গাটা ধরা ছিল তাঁদের হাতে। এদের টপকে কার্যত ধারাবাহিক সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। যেটুকু পেয়েছেন সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি ঠিকঠাকভাবে। আর বাংলাদেশের সিস্টেমের রোষানল তো ছিলই।

তাই বলে মিঠুন একেবারে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। ঠিকঠাক যত্ন নিলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হতে পারতেন। কিংবা এই সময়ের কেউ যদি মিঠুন হতেন তবে সুযোগের কোনো কমতি থাকত না।
বিপিএল, ডিপিএল কিংবা ঘরোয়ায় যত জায়গায় খেলেছেন নিজের ইমপ্যাক্ট রেখে গেছেন। সেই সঙ্গে আফসোসের স্ফুলিঙ্গটা দাবানল হয়ে ধরা দিয়েছে। কালের বিবর্তনে মিঠুন এখন দুয়োধ্বনি শোনেন, হয়তো হাসির আড়ালে একটা চাপা আক্ষেপ লুকিয়ে রাখেন। আর মনের ভেতর থেকে ভেসে আসে এক ‘অস্ফুট কণ্ঠস্বর, ‘ইস, সময়টা যদি অনুকূলে থাকত তখন।’
Share via:











