পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টাইগার পেসারদের দাপট ছিল নজরকাড়া। এখন আর স্পিন নির্ভর উইকেটের প্রত্যাশায় থাকতে হয় না। ট্রু উইকেটের ফায়দা তুলে নিতে ওস্তাদ নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদরা। তিন ম্যাচে পাকিস্তানের ৩০টি উইকেটের পতন ঘটেছে। আর সেই ৩০ উইকেটের ১৯টি উইকেটই গেছে। অর্থাৎ সিরিজে প্রতিপক্ষের ৬৩ শতাংশ উইকেট গেছে পেসারদের পকেটে।
এটাকে বলা যেতে পারে নাহিদ রানার ব্রেকআউট সিরিজ। আট উইকেট বাগিয়ে তিনি হয়েছেন সিরিজ সেরা। তবে এই যে বাংলাদেশের পেসারদের আমুলে বদলে যাওয়া, প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেওয়া- এই বিষয়গুলো মোটেও হুট করে হয়ে যায়নি। বরং দু’জন কারিগর এই পুরো পেস ব্যাটারির চালিকাশক্তি, ঢাল ও পথপ্রদর্শক হয়ে আছেন দীর্ঘকাল- একজন মুস্তাফিজুর রহমান, আরেকজন তাসকিন আহমেদ।
জাতীয় দলে এই দুই পেসার পা রেখেছিলেন পা একই সময়ে। তব মুস্তাফিজের আগে হয় তাসকিনের অভিষেক। ২০১৪-১৫ সালে এই দুই রত্নের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। এরপর থেকে তিন ফরম্যাটেই তারা বনে গেছেন পথের মশাল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাসকিন ও মুস্তাফিজ উইকেট নিয়েছেন ১১টি। এভাবেই যুগলবন্দীতে তারা পার করে দিয়েছেন একটি দশক।

লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে এই দুইজনই এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসারদের মধ্যে। তিন ফরম্যাটের উইকেট বিবেচনায় তাদের উপরে আছেন কেবল মাশরাফি বিন মর্তুজা। মুস্তাফিজের ৩৭১ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের উইকেট সংখ্যা ২৭৮টি। দুইজনই ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন দেখেছেন। তাসকিন তো দল থেকে বাদ পড়ে কান্নাও করেছিলেন জনসম্মুখে।
অথচ তারা দুইজনই নিজেদের খারাপ সময়কে পেছনে ফেলে উঠে দাঁড়িয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, অনুপ্রেরণার জোগান এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। সাদা বলের দুই ফরম্যাটে তাসকিন ও মুস্তাফিজ এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদেরকে ছাড়া স্কোয়াড সাজানো দুষ্কর। সাদা বলে তাসকিনের উইকেট ২২৯টি, মুস্তাফিজ বাগিয়েছেন ৩৪০টি।
তাছাড়া এরা দুইজনই ম্যাচ উইনার। হতাশার ধূসর চাদর ঠেলে ঠিকই তারা আশার নতুন আলোর সঞ্চার ঘটাবেন। কখনো সে কাজটা করবেন তাসকিন, কখনো দায়িত্ব নেবেন মুস্তাফিজ, কখনো আবার অনুজদেরকে পেছনে থেকে দিয়ে যাবেন উৎসাহ। এই দু’জন একই সূত্রে গেঁথে রেখেছেন গোটা পেস বোলিং ইউনিটকে। নিজেরা পারফরম করে স্পৃহাও বাড়াচ্ছেন কয়েকগুণ। সেই স্পৃহার ভেলায় চড়ে উড়ছে টাইগারদের পেস ব্যাটারি।












