বলে কয়ে স্মিথকে বধ করেছিলেন রিশাদ

সিডনির ড্রেসিংরুমের সামনে যখন স্টিভ স্মিথের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন রিশাদ হোসেন, তখন কে জানত সেই স্থিরচিত্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দুর্ধর্ষ পাণ্ডুলিপি! রিশাদ কেবল ছবি তুললেন না, স্মিথের চোখে চোখ রেখে এক অদ্ভুত বাজি ধরলেন।

অনেক সময় ক্রিকেটের স্কোরকার্ডে যা লেখা থাকে, তার চেয়েও বড় গল্প লেখা হয় খেলার বাইরের নিভৃত কোনো কোণে। সিডনির ড্রেসিংরুমের সামনে যখন স্টিভ স্মিথের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন রিশাদ হোসেন, তখন কে জানত সেই স্থিরচিত্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দুর্ধর্ষ পাণ্ডুলিপি! রিশাদ কেবল ছবি তুললেন না, স্মিথের চোখে চোখ রেখে এক অদ্ভুত বাজি ধরলেন। মৃদু স্বরে কিন্তু অটল বিশ্বাসে বললেন, ‘আমার একটা ইচ্ছা আছে যে, আপনার উইকেট নেব, আর তা আজই!’

আধুনিক ক্রিকেটের বরপুত্র স্মিথ হয়তো তখন এক তরুণের চপলতা ভেবেই হেসেছিলেন। কিন্তু ২২ গজের তপ্ত মঞ্চে যখন রিশাদের আঙুলের কারসাজিতে স্মিথের ডিফেন্স চুরমার হয়ে স্টাম্পগুলো বাতাসে ডানা মেলল, তখন সেই চপলতা রূপ নিল এক অমোঘ সত্যে।

প্রথম মোকাবেলাতেই বিশ্ব সেরা এই ব্যাটারকে ভূপাতিত করার পর ম্যাচ শেষে রিশাদ যখন মনে করিয়ে দিলেন, ‘মনে আছে, বলেছিলাম!’ – তখন স্মিথের সেই চেনা মুচকি হাসিটি ছিল এক নতুনের স্পর্ধাকে দেওয়া রাজকীয় স্বীকৃতি।

এই ঘটনাটি কেবল একটি উইকেটের পতন নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক মানসিক বিবর্তনের দলিল। কেননা, ক্রিকেট মানচিত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় ছিল না কখনোই, কিন্তু অভাব ছিল আত্মবিশ্বাসের সেই চূড়ান্ত বিন্দুর – যেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বসেরাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়।

বিগ ব্যাশের মতো গ্লোবাল লিগগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য আজ কেবল অর্থকরী আসর নয়, বরং এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠশালা। যেখানে ভেঙে যায় ভীতি, বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। বিশ্বসেরা মস্তিষ্কগুলোর সান্নিধ্যে থেকে রিশাদরা শিখেছেন কীভাবে প্রতিকূলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হয় এবং টেকনিকের চেয়েও বেশি শাণিত করেছেন তাদের চিন্তাশক্তিকে।

রিশাদের এই সাফল্য কেবল একটি চ্যালেঞ্জ জেতার গল্প নয়। এটি বিদেশের লিগে খেলার ইতিবাচক প্রভাবের জীবন্ত বিজ্ঞাপন। কয়েকদিন আগেও যেখানে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে কোনো লেগস্পিনারকে খেলতে দেখা ছিল স্বপ্নের মতো। সেখানে রিশাদ আজ সুদূর তাসমান সাগর পাড়ে অস্ট্রেলীয় পরাশক্তিদের চোখ রাঙাচ্ছেন। এটা গল্প হলেও সত্যি!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link