বাংলাদেশকে হেয় করছে অস্ট্রেলিয়া। এমন একটা গুঞ্জন উঠেছিল। তবে প্যাট কামিন্স, ট্রাভিস হেডদের বিপুল পরিমাণে অর্থের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অবশ্য দিচ্ছে ভিন্ন বার্তা। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা বেশ গুরুত্বের সাথেই প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য দু’টি টেস্ট ম্যাচকে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দু’টি টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামবে তারা। অস্ট্রেলিয়ার চিরায়ত টেস্ট ভেন্যুতে হবে না ম্যাচগুলো। প্রথম টেস্ট হবে ডারউইনের মারারা ওভালে, দ্বিতীয় ম্যাচের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা। আর এখানেই উঠেছিল প্রশ্ন- খর্বশক্তি বলেই কি তবে বাংলাদেশ অগ্রাহ্যের পাত্র?
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বাণিজ্যিক দিক সহ আরও নানা কারণে ওই দু’টি ভেন্যুকে বেছে নিয়েছে। সেখানে অগ্রাহ্য বা হেয় করবার কিঞ্চিৎ সম্ভাবনা মিশ্রিত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও সেটাই মুখ্য কারণ নয়। সেটিই যেন আরও একবার বোঝালেন প্যাট কামিন্স।

এক পডকাস্টে কামিন্স জানিয়েছেন তারা প্রায় আট কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যখন টেস্ট সিরিজ খেলতে পা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে- তখনই অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্ট। সেখানে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের কদর কম হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তবুও প্যাট কামিন্স, ট্রাভিস হেডসহ আরও যারা টেস্ট দলে নিয়মিত তারা হান্ড্রেডের নিলামে নিজেদের নাম দাখিল করেননি। এমনকি সরাসরি চুক্তিতে তাদেরকে দলে ভেড়াতে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল হান্ড্রেডের বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি। কিন্তু সেসবকে পাশ কাটিয়ে কামিন্সরা বাংলাদেশের বিপক্ষে দু’টি টেস্ট ম্যাচকেই বেছে নিয়েছেন।
কামিন্স বলেন, ‘এবার দ্য হান্ড্রেডের সময়ই বাংলাদেশ সিরিজের দুটি টেস্ট রয়েছে। যারা টেস্ট খেলবে, তারা হান্ড্রেডের নিলাম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাওয়া প্রায় ৫ লাখ পাউন্ডের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি টাকা) প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলতেই মূলত এমনটা করছে।’

যেখানে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জন্য বিভিন্ন খেলোয়াড়রা ছেড়ে দিচ্ছেন জাতীয় দল। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়োদের লোভনীয় প্রস্তাবকে নাকোচ করা, শুধু মাত্র দু’টি টেস্টের জন্য- মোটেও খর্ব করে দেখার বিষয় নয়। চাইলেই দ্বিতীয় সারির একটা টেস্ট দলকে মাঠে নামাতে পারত অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তাদের খেলোয়াড়দের আগ্রহই বরং বলছে বাংলাদেশকে ইচ্ছাকৃত হেয় করবার কোন উদ্দেশ্য নেই অজিদের।











