ভিনদেশি স্তুতিতে বিমোহিত রানার বিধ্বংসী অগ্নিস্পেল

ক্রিকেট মাঠে গতির আগুন সবসময়ই এক আদিম উন্মাদনার জন্ম দেয়। নাহিদ রানাকে নিয়ে সেই উন্মাদনা এখন কেবল গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ নেই, আছড়ে পড়েছে ধারাভাষ্য কক্ষের কাঁচঘেরা গণ্ডিতেও।

ক্রিকেট মাঠে গতির আগুন সবসময়ই এক আদিম উন্মাদনার জন্ম দেয়। নাহিদ রানাকে নিয়ে সেই উন্মাদনা এখন কেবল গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ নেই, আছড়ে পড়েছে ধারাভাষ্য কক্ষের কাঁচঘেরা গণ্ডিতেও। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাহিদ রানার সেই বিধ্বংসী স্পেলের রেশ যেন কাটছেই না। রাওয়ালপিন্ডি বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের লড়াই চলাকালীন ধারাভাষ্যকারদের আলোচনায় আবারও উঠে এল বাংলাদেশের এই গতিদানবের নাম।

ম্যাচের নবম ওভার চলাকালীন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা সোজাসাপ্টা ভাষায় বাংলাদেশের দল নির্বাচনকে এক প্রকার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা সংকীর্ণ ধারণা কাজ করে যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বুঝি সবসময় গতি কার্যকর নয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, যদি কারো হাতে গতি থাকে, তবে ফরম্যাট বিবেচনা না করেই তাকে খেলানো উচিত।’

রমিজ রাজার এই মন্তব্যের সাথে সাথে সুর মেলালেন পাশে থাকা নিক নাইট। নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রণ দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি যোগ করেন, ‘একদম সত্যি! গত ম্যাচে ওর পারফরম্যান্স কী অবিশ্বাস্যই না ছিল! শুধু যে গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছে তা নয়, গতির ওপর ওর যে নিয়ন্ত্রণ – সেটিই ছিল দেখার মতো।’

​ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মাহাত্ম্য বোধহয় এখানেই। ঘরের মাঠে বা স্থানীয় কোনো লিগে এমন স্পেল করলে হয়তো আমরা সাধারণভাবেই নিতাম। কিন্তু যখন ভিনদেশি বিশেষজ্ঞদের কণ্ঠে আমাদের কোনো তরুণের এমন আকাশচুম্বী প্রশংসা ঝরে পড়ে, তখন সেই স্বীকৃতির গুরুত্ব বদলে যায় মুহূর্তেই।

নাহিদ রানা গত ম্যাচে যে ২৪টি বল করেছিলেন, প্রতিটি যেন ছিল একেকটি নিখুঁত কবিতা। যারা সেই স্পেলটি দেখেছেন, তারা বারবার সেই সম্মোহনে আচ্ছন্ন হতে চাইবেন। সেই ২৪ বলের প্রতিটি দমে তিনি প্রমাণ করেছেন – বিশ্বরথীদের শাসন করার সামর্থ্য তার রক্তে মিশে আছে।

নাহিদ রানা কেবল সাধারণ একজন বোলার নন। তিনি এক প্রবল সম্ভাবনার স্ফুলিঙ্গ। ভিনদেশের মাটিতে তার এই বন্দনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় – সঠিক পরিচর্যা পেলে এই স্ফুলিঙ্গ একদিন দাবানল হয়ে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করবে। আপাতত সেই গতির স্তুতি চলুক, আমরা শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখি লাল-সবুজের এক নক্ষত্রের উত্থান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link