নিয়মনীতির পরোয়া করেন না সুরিয়াভানশি!

প্রথমবারের মতো জাসপ্রিত বুমরাহর মোকাবিলা করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন বৈভব সুরিয়াভানশি। এবার প্রথম সাক্ষাতেই জশ হ্যাজেলউডের বলে আদায় করলেন বাউন্ডারি। সুরিয়াভানশি যেন পণ করেই মাঠে নামেন, আজকে সেরা বোলারদের দম্ভচূর্ণ করব।

প্রথমবারের মতো জাসপ্রিত বুমরাহর মোকাবিলা করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন বৈভব সুরিয়াভানশি। এবার প্রথম সাক্ষাতেই জশ হ্যাজেলউডের বলে আদায় করলেন বাউন্ডারি। সুরিয়াভানশি যেন পণ করেই মাঠে নামেন, আজকে সেরা বোলারদের দম্ভচূর্ণ করব।

ব্যাটটা যেন চার হাত চওড়া তাঁর। চোখেমুখে কৈশোরের ছাপ স্পষ্ট, তবে বুকের মধ্যে বেড়ে ওঠা সাহসটার বয়স গণনার জন্য কোনো ক্যালকুলেটর নেই বোধহয়। সুরিয়াভানশি আসবেন, বোলারদের উপর রোলারকোস্টার চালাবেন, এরপর ফিরে যাবেন ড্রেসিংরুমে। যাওয়ার আগে বাইশ গজটা লন্ডভন্ড করে দেবেন। এটাই যেন তাঁর কাজ।

আগের দিনেই বুমরাহকে এক ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর সামনে দাঁড়ানোর সাধ্য কারও নাই। এবার দুনিয়ার আরেক সেরা বোলার হ্যাজেলউডকে এক ওভারে তিন চার আর এক ছক্কা মেরে বলে গেলেন, তুমি যেই হও না কেন, বেবি মনস্টারের হাত থেকে রেহাই পাবে না কেউ।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বোলাররা স্রেফ অসহায় হয়ে পড়ে থাকল সুরিয়াভানশির সামনে। হার্ড লেন্থ, ফুল লেন্থ, শর্ট বল কিংবা ইয়র্কার—কোনো বলটাই তাঁকে থামানোর কোনো উপায় জানে না। বীজমন্ত্র একটাই, বলটা আসা মাত্রই যত জোর আছে শরীরে সেটা দিয়ে মারতে হবে। ব্যস, আর কোনো নিয়মনীতি এখানে চলে না, কোনো পরিসংখ্যান, ক্রিকেটের ব্যাকরণ বৈভবের জন্য না।

১৫ বলে ফিফটি তুলে নিলেন, এরপরও একই ধারায় চলল ইনিংস। ক্রিকেটকে রীতিমতো ভিডিও গেমসে পরিণত করেছেন সুরিয়াভানশি, এটা কেবলই বিনোদনের খোরাক। যার রাজা এখন ১৫ বছরের এক ছোকরা।

সেঞ্চুরির পথেই এগোচ্ছিলেন একটু একটু করে। তবে শেষটায় থামতে হলো, ব্যাট থেকে এলো ২৬ বলে ৭৮ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস। স্ট্রাইক রেটটা যেখানে কাটায় কাটায় ৩০০।

সুরিয়াভানশি যেন ক্রিকেটের নিয়ম বদলে দিতে এসেছেন। তিনি যেন বিদ্রোহী কবিতার সেই লাইন, আমি মানি না কো আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!

Share via
Copy link