প্রিমিয়ার লিগে ট্রান্সফারের অল-টাইম রেকর্ড!

দলবদলের ঘড়িতে তখন শেষ কয়েক মিনিট। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ আর ইতিহাদের মাঝে চলছিল এক নিঃশব্দ টানাপোড়েন। রাত এগারোটার ঠিক আগে সেই চাল সম্পন্ন হলো—এনজো ফার্নান্দেজ চেলসি ছেড়ে পাড়ি দিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে, ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে।

দলবদলের ঘড়িতে তখন শেষ কয়েক মিনিট। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ আর ইতিহাদের মাঝে চলছিল এক নি:শব্দ টানাপোড়েন। রাত এগারোটার ঠিক আগে সেই চাল সম্পন্ন হলো—এনজো ফার্নান্দেজ চেলসি ছেড়ে পাড়ি দিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে, ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে। শুধু এই একটি লেনদেনই ঠেলে দিল প্রিমিয়ার লিগের মোট খরচকে আগের রেকর্ডের ওপারে। শুধু দলবদলের শেষ দিনেই ক্লাবগুলো খরচ করেছে ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড, গত বছরের শেষ দিনের ৩৯১ মিলিয়নের চেয়ে ঢের বেশি।

সব মিলিয়ে এই গ্রীষ্মে প্রিমিয়ার লিগের ২০ ক্লাব খরচ করেছে ৩.৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড, গত বছরের ৩.১৪ বিলিয়নের রেকর্ড ভেঙে। পাঁচ বছর আগে যেখানে অঙ্কটা ছিল মাত্র ১.১৩ বিলিয়ন পাউন্ড, আজ তা তিন গুণেরও বেশি। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দশ ট্রান্সফারের তিনটিই এবার প্রিমিয়ার লিগের, আর লিগের নিজস্ব সর্বকালের সেরা পাঁচ ট্রান্সফারের চারটিই এসেছে এই গ্রীষ্মেই—ফার্নান্দেজের ১২ কোটি ৫০ লাখ, নটিংহাম ফরেস্ট থেকে সিটির এলিয়ট অ্যান্ডারসন ১১ কোটি ৬০ লাখ, অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসির মরগান রজার্স ১১ কোটি ৭০ লাখ, আর লিভারপুলের ব্র্যাডলি বারকোলা—পিএসজি থেকে প্রাথমিক ১০ কোটি ৬০ লাখ, শর্ত পূরণ হলে যা বাড়তে পারে ১২ কোটি ৩০ লাখে।

প্রিমিয়ার লিগের বাইরে এত বড় অঙ্কের ছোঁয়া পেয়েছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদের ইয়ান দিয়োমান্দে আর নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় যাওয়া অ্যান্থনি গর্ডন। টটেনহ্যাম সান্দ্রো তোনালিকে ক্লাব-রেকর্ড ফিতে এনেছে, যা ১০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে। সিটি লিলের আইয়ুব বুয়াদ্দিকে কিনেছে ৮ কোটি ৫৬ লাখে, আর্সেনাল ব্রুনো গিমারায়েসকে ৭ কোটি ৫০ লাখে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কার্লোস বালেবাকে ৭ কোটি পাউন্ডে।

সবচেয়ে বেশি খরচ অবশ্য সিটিরই—ফার্নান্দেজের চুক্তির পর মোট ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড, লিভারপুলের গত বছরের ৪১৫ মিলিয়নের রেকর্ড ভেঙে। বিক্রি থেকে তারা তুলেছে প্রায় ৩০৪ মিলিয়ন। দ্বিতীয় চেলসি, খরচ ৩৪৯ মিলিয়ন, বিক্রি থেকে ৩৮২ মিলিয়ন আসায় নিট লাভ ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড। সদ্য উত্তীর্ণ ইপসউইচ টাউন খরচ করেছে ১৭১ মিলিয়ন—বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাসের চেয়েও বেশি।

২০ ক্লাবের ১১টিই ভেঙেছে নিজেদের ক্লাব-রেকর্ড। কভেন্ট্রি সিটি ভেঙেছে চারবার—শেষে ক্যালেব ইয়েরেনকিতে ২ কোটি ৩১ লাখ পাউন্ড খরচ করে।

এত বিপুল অর্থের স্রোতের মাঝেই এক টুকরো বৈপরীত্য লুকিয়ে ছিল দুই ক্লাবের বারবার আদান-প্রদানে। রজার্স যেমন ভিলা থেকে গেলেন চেলসিতে, ঠিক তেমনই সেই পথে হাঁটলেন আরেকজন—বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিন্তু তাঁর দাম যেন এই গ্রীষ্মের অন্য সব সংখ্যাকে বিদ্রুপ করে গেল—মাত্র ৭৫ লাখ পাউন্ড, যা সেঞ্চুরি-মিলিয়ন ফিগারের ভিড়ে এক প্রকার ছোট্ট নীরব ফুটনোট।

এত বিপুল অর্থের স্রোত কি শেষমেশ মাঠের ফুটবলে প্রতিফলিত হবে, নাকি শুধুই আরেকটি সংখ্যার রেকর্ড হয়ে থেকে যাবে পরের গ্রীষ্মের অপেক্ষায়?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link