সাদমান ইসলামকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপেনিং সংকট আড়াল করার চেষ্টা চলছিল বহুদিন ধরে। কিন্তু পরিসংখ্যানের আয়নায় তাকালে প্রশ্ন জাগে—আড়াল করা যাচ্ছে তো, নাকি সংকটটাই আরও গভীর হচ্ছে?
২০২৫ সালটা ছিল সাদমানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। ১০ ইনিংসে ৪৭৭ রান, গড় ৪৭.৭০, স্ট্রাইক রেট ৬১.৩৮—একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি নিয়ে যেন নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন এই ওপেনার। শ্রীলঙ্কা আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটে ধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল, মনে হচ্ছিল দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে স্থিতি খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
কিন্তু ২০২৬ এসে সেই গল্পই যেন উল্টে গেল একের পর এক সিরিজে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় ১৩ ও ১০, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ২০ ও ১১—তারপর অস্ট্রেলিয়া সফরে যেন আরও একবার নিজের পুরনো দুর্বলতার মুখোমুখি হলেন সাদমান।
ডারউইনে ২০ ও ২৫ রানের পর ম্যাকায়তে এলো সেই দু:স্বপ্নের মুহূর্ত—মিশেল স্টার্কের প্রথম বলেই বোল্ড, বাংলাদেশের ইতিহাসে হান্নান সরকারের পর মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টের প্রথম বলেই আউট হওয়ার তালিকায় নাম লেখালেন তিনি। দুই দশক পরও বাংলাদেশের ওপেনিং যেন সেই পুরোনো ভূতেই আটকে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে দুই টেস্টের চার ইনিংসে সাদমানের রান মোটে ৪৬—গড় নেমে দাঁড়ায় ১৫.৩৩-এ। বছরজুড়ে ৪ ম্যাচের ৮ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৯৮ রান, গড় মাত্র ১৪, কোনো সেঞ্চুরি নেই, আছে একটি শূন্য। যে ধারাবাহিকতার আভাস ২০২৫ দিয়েছিল, ২০২৬ যেন তা এক নিমেষে মুছে দিল।
ক্যারিয়ারের সামগ্রিক চিত্রও একই গল্প বলে। ৩০ টেস্টের ৫৭ ইনিংসে ১৪৯৮ রান, গড় ২৭.৭৪—আন্তর্জাতিক ওপেনার হিসেবে যা একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয়। বিদেশের মাটিতে সংখ্যাটা আরও কঠিন—১৮ ম্যাচে গড় ২৮.৪২, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তো রীতিমতো ভীতিকর, ৩ ম্যাচে গড় মাত্র ২.৬৬। অর্থাৎ যেখানেই কন্ডিশন কঠিন হয়, ঠিক সেখানেই সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন সাদমান।
আসল প্রশ্নটা এখানেই—সাদমানের মধ্যে এমন কোনো এক্স ফ্যাক্টর নেই, যা তাঁকে অপরিহার্য করে তোলে। তবু বোর্ডের আস্থা তাঁর ওপর থেকে সরে না। প্রতিটি ব্যর্থতার পরও ফিরে আসেন তিনি, যেন দলের প্রয়োজন আর তাঁর ফর্মের মধ্যে এক অদ্ভুত সমঝোতা চলছে বছরের পর বছর ধরে। অথচ বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার নামটাই যেন হয়ে উঠছেন তিনি নিজে।
সাদমান ইসলাম কি সত্যিই বাংলাদেশের ওপেনিং সংকটের সমাধান, নাকি শুধু বিশেষ কিছু না হয়েও সময় এবং সুযোগ পেয়ে যাওয়া আরেকটি নাম—যিনি সংকটটাকেই আরও কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখছেন?











