বাংলাদেশের ইতিহাসের চূড়ায় এখন হৃদয়

কী অসাধারণ এক ব্যাটিং মহাকাব্য! দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে ইতিহাস ছুয়ে ফেললেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ইনিংসের মালিক এখন তাওহীদ হৃদয়। টপকে গেছেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তামিম ইকবালের করা ৩৩৪ রানের রেকর্ডকে।

কী অসাধারণ এক ব্যাটিং মহাকাব্য! দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে ইতিহাস ছুয়ে ফেললেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ইনিংসের মালিক এখন তাওহীদ হৃদয়। টপকে গেছেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তামিম ইকবালের করা ৩৩৪ রানের রেকর্ডকে।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন হৃদয়। ৪৮১ বল খেলে করেন ৩৫০ রান। নবম ইনিংস জুটিতে রেজাউর রহমান রাজার সাথে যোগ করেন ১৫৭ রান।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো তিন নম্বর ব্যাটার এখন হৃদয়। এর আগে তামিম ইকবালের সাথে এই কীর্তিতে নাম আছে রকিবুল হাসানের। বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের কেউ এই কীর্তি গড়লেন, আর সেই কীর্তিটাই এখন সেরা স্কোরের তালিকায় উঠে গেল সবার ওপরে।

এমনকি বাংলাদেশ এ দলের হয়েও সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও এখন হৃদয়ের। তাওহীদ হৃদয় রীতিমতো অসাধ্য সাধন করলেন। যা কেউ করেনি, তিনি তাই করলেন। ধৈর্য ধরে পড়ে থাকা বলে যে টার্ম ক্রিকেটে প্রচলিত, সেটার উদাহরণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থেকে দেখালেন।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এর আগে হৃদয়ের সর্বোচ্চ রান ছিল ২১৭। টেস্ট ক্রিকেটের টেম্পারামেন্ট তার মাঝে আছে, অন্তত এই ব্যাপারে সন্দেহ থাকার কথা নয় কারো। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক ম্যাচের জন্য পা রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে সেখানে ডাহা ফেল, দুই ইনিংস মিলিয়ে এসেছে ১২ রান। সাদা বল আর লাল বলে বিস্তর ফারাক, হৃদয় এই বাস্তবতার মধ্যে পড়ে যান।

নিজেকে প্রমাণের একটা উপলক্ষ দরকার ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অবশেষে সেটা এলো। বাংলাদেশ এ দলের ট্যাগ লাগিয়ে যা তিনি করলেন, সেটাকে অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় যত বিশেষণ আছে, তার সবটা দিয়ে বর্ণনা করলেও বোধহয় কমই বলা হবে।

হৃদয়ের এই ইনিংসের মাহাত্ম্য শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে আটকে নেই। দলকে বাঁচানোর জন্য একমাত্র উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে কাজে এসেছে। ১৩৫ রানে যখন চার উইকেট হারিয়ে বসে আছে বাংলাদেশ, তখন আফ্রিকার ৫১২ হিমালয়ের চূড়া হয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে বাংলাদেশকে। তবে ওখানে ওঠার সাহস এক তাওহীদ হৃদয় ছাড়া অবশিষ্ট ছিল না কারো মনে।

মাঝপথে ৯৪ রান করা জাকের আলী সঙ্গ দিয়েছেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও তুলেছেন ৮৭ রান। তবে সবাই চলে গেলে কেবল একা দাঁড়িয়ে ছিলেন হৃদয়। ভাঙা কোনো সাম্রাজ্য আগলে রাখা শেষ প্রহরী তিনি। শেষের দিকে রেজাউর রহমান রাজাও অনন্য এক জুটি গড়েন হৃদয়ের সাথে।

সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, সবই এলো। বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিকও হলেন। তবে ক্ষুধা তখনও মেটেনি। ট্রিপল সেঞ্চুরিটাও ধরা দিল তার হাতে এসে। চতুর্থ দিন পোচেফস্ট্রমের তৃতীয় সেশনে পেলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি, কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কোনো ভিনদেশি ব্যাটার ট্রিপল সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র একবার। শেষ সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই টপকে যান তামিম ইকবালকে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link