বল হাই ফুলটস, ব্যাট ঘুরল সোজা তার দিকে—চার্লস ক্যাচ আউট, মাঠ ছাড়ার পথও ধরে ফেললেন। কিন্তু ক্রিকেট মাঝেমধ্যে এমন এক নাটক লিখে রাখে, যার শেষ দৃশ্যটা লেখা থাকে অন্য কোথাও।থার্ড আম্পায়ারের রিভিউতে ধরা পড়ল—বলটা ছিল নো, কোমরের ওপরের উচ্চতায়। জনসন চার্লস আবার ফিরলেন ক্রিজে, আর সেই ফেরাটাই যেন বদলে দিল সেন্ট কিটসের রাতের রঙ।
সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে সিপিএল ২০২৬-এর ম্যাচে তখন ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রামন সিমন্ডসের হাই ফুলটসে চার্লসের ব্যাট থেকে বলটা উঠে যায় শূন্যে, ডিপ স্কয়ার লেগে শেরফেন রাদারফোর্ডের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে তা লুফে নেওয়া হয়—মাঠের আম্পায়াররা নো-বলের সংকেত দেননি, চার্লস তাই সাজঘরের পথে হাঁটাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু গ্যালারিতে তখন উত্তেজনার ঢেউ, প্যাট্রিয়টসের সাপোর্ট স্টাফরা রিজার্ভ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। থার্ড আম্পায়ার কার্ল টাকেট রিভিউ করে সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন—চার্লস ফিরে আসেন মাঠে।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আম্পায়াররা খেলাটা বিশৃঙ্খলভাবে সামলেছেন, একজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে গিয়ে আবার ফিরে আসার বিষয়টি ভালো দেখায় না। জেসন হোল্ডার—যিনি জয়ী দলের অধিনায়ক হয়েও গ্রিনের পাশে দাঁড়ালেন—বললেন, এটা আম্পায়ারদের জন্য একটা সতর্কবার্তা হওয়া উচিত, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আরও দৃঢ় হওয়া দরকার।

তবে বিতর্ক যেন উল্টো জ্বালানি জোগাল চার্লসের ব্যাটে। ফ্রি-হিটেই ছক্কা হাঁকিয়ে ট্রাইডেন্টসের ক্ষতে আরও লবণ ছিটিয়ে দেন তিনি। এই টুর্নামেন্টে আগের পাঁচ ইনিংসে যেখানে সর্বোচ্চ ছিল মোটে ২১, সেই চার্লসই এদিন খেলেন ৪৫ বলে ৭৮ রানের ইনিংস, কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে গড়েন ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটি। প্যাট্রিয়টস শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জিতে যায়, যদিও প্রতিপক্ষের কুইন্টন ডি কক এর আগে ৫৭ বলে ১০৬ রানের সেঞ্চুরিতে বিরাট কোহলি-ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে দশম শতকের কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছিলেন।
চার্লস নিজে অবশ্য পুরো বিতর্কটা হালকা চালেই নিয়েছেন। তার ভাষায়, শুরু থেকেই তার মনে হয়েছিল বলটা নো, আর কিছু বিতর্ক খেলাটাকে জমিয়েও তোলে। জয়ের পর তিনি বলেন, তিনি একটু দেরিতে হলেও ফর্মে ফিরেছেন, শুধু রানটা আসছিল না—কিন্তু এখন তিনি খুশি, দলের জন্য ভালো কিছু করতে পেরে।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এল প্যাট্রিয়টস, ট্রাইডেন্টস রইল তলানিতেই। কিন্তু আম্পায়ারিং নিয়ে যে প্রশ্ন উঠল রাতের শেষে, তা কি মিটে যাবে এখানেই, নাকি টুর্নামেন্টের বাকি পথেও তাড়া করবে সিপিএলকে?












