১২ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ার, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে একজন ক্রিকেটার এই সময়ের মধ্যে কতগুলো ম্যাচ খেলবেন? নিশ্চয় আপনি ভাবছেন ২০০, ২৫০ কিংবা তারও বেশি। উত্তরটা আসলে, ৮৬। বলছিলাম তাসকিন আহমেদের কথা। এতটাই অভাগা তিনি পছন্দের ফরম্যাটেও ১০০ ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি।
২০১৪ সালের ১৭ জুন, ১৯ বছরের একটা ছেলে গতির ঝড় তুলছে বাইশ গজে। ভারতের প্রতাপশালী ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দিয়ে রীতিমতো বিস্ময় জাগিয়েছে। সবাই ধরেই নিয়েছিল আগামীতে এই ছেলেটার হাতেই উঠবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ব্যাটন।
এরপর সময় গড়িয়েছে, তাসকিনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একের পর এক বাধাবিপত্তি। কখনো ইনজুরি, কখনো উপেক্ষা। তবে তাসকিন দমে যাননি, নিজেকে বারবার ফিরিয়ে এনেছেন বাইশ গজের মঞ্চে।

তবে সেটা আসলে খুব কম সময়ের জন্যই। ১২ বছর খেলে ফেললেও মাত্র ৮৬টি ওয়ানডেতে মাঠে নামা হয়েছে তাঁর। এখনও অবশ্য হাতে সময়টা আছে, ম্যাচ খেলার সংখ্যাটা তাই বাড়বে। প্রশ্নটা এখানেই, তাসকিন আসলে আর কত দিন দলকে সার্ভিস দিতে পারবেন।
বয়সটা এখন ৩১ ছাড়িয়েছে। এই বয়সে সাধারণত একজন বোলারের প্রাইম টাইমটা শেষের পথে থাকে। তাসকিন এখন সেই গোধুলি বেলায় দাঁড়িয়ে আছেন। হয়তো বড়জোর চার বছর ওয়ানডে ক্যারিয়ারটাকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবেন। তবে সেখানেও আছে শঙ্কা।
২০২৭ বিশ্বকাপটা তাসকিনের শেষ বিশ্বকাপ ধরে নেওয়া যায়। যদি না খুব যত্নে রাখা হয় তাঁকে। কেননা ইনজুরি প্রবণতা রয়েছে তাসকিনের। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ঠিকঠাক না হলে বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে ইনজুরিতে পড়লে সেখান থেকে ফিরে আসা বড্ড কঠিনই হবে।

তাই তো তাসকিনকে নিয়ে প্রতিটা পদক্ষেপ হতে খুবই সতর্ক। পরিকল্পনা আর যত্নের সমন্বয়ে তাসকিনকে আগলে রাখতে হবে। যদিও কোনোভাবেই ওই আক্ষেপটা মুছে দেওয়ার উপায় নেই যে, তাসকিনের মতো একজন পেসার খেলেছেন মাত্র ৮৬ ম্যাচ। যেখানে অন্তত ২০০ ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। এখন বাকি সময়টা কতটা মসৃণ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Share via:











