এমবাপ্পে যেন মাঠে আড়ালে থাকা এক স্বৈরশাসক

কাকতালীয় হোক বা পরিকল্পনা - তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পার পেয়েছেন এমন নজির খুব কমই।

ফুটবল বিশ্বের বর্তমান মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল করার নিপুণ দক্ষতা আর গতির ঝড়ে তিনি গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়ান ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরে তার প্রভাব নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। ফুটবলপাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায় এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ গল্প। কাকতালীয় হোক বা পরিকল্পিত – তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পার পেয়েছেন এমন নজির খুব কমই।

ঘটনাটি ছিল ফরাসি শিবিরের। অলিভার জিরু হয়তো স্রেফ মজা করেই এমবাপ্পের পরিপাটি চুলে হাত দিয়ে তা কিছুটা এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই খুনসুটির রেশ কাটতে না কাটতেই কয়েক দিনের মাথায় এলো চমকপ্রদ খবর – ফ্রান্সের জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন জিরু। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মতেই, চুলের ঐ সামান্য অবাধ্যতাই কি তবে জিরুর ক্যারিয়ারের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল?

স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সেলোনার জয়ের পর ফুটবলীয় সৌজন্য প্রদর্শনে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে চেয়েছিলেন কোচ জাভি আলোনসো। তবে এমবাপ্পে কোনোভাবেই চাচ্ছিলেন না তার সতীর্থরা এটি করুক। মাঠেই ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। কিন্তু জাভি নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় সেই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ফলাফল? কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফুটবল বিশ্ব জানল – জাভি আর রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্বে থাকছেন না।

মাস্তানতুয়োনো নামের এক তরুণ আর্জেন্টাইন প্রতিভাবান ফুটবলারটি পুরো মৌসুম জুড়েই শুরুর একাদশে নিজের জায়গা পোক্ত করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি ম্যাচে এমবাপ্পেকে বল পাস না দিয়ে নিজে খেলার চেষ্টা করেন তিনি। আর সেই মুহূর্তটিই হয়তো তার কপাল পুড়িয়েছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে আর শুরুর একাদশে দেখা যায়নি।

পিএসজির দিনগুলোতে একবার উইং দিয়ে দৌড়ানোর সময় প্রতিপক্ষের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান এমবাপ্পে। সাইডবেঞ্চে বসে সেই দৃশ্য দেখে উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার। সেই হাসির প্রতিধ্বনি কি তবে আল-হিলালে গিয়ে থামল? ঠিক এক সপ্তাহ পরই রেকর্ড ট্রান্সফারে নেইমারকে সৌদি আরবের ক্লাবটির কাছে বিক্রি করে দেয় পিএসজি কর্তৃপক্ষ।

তালিকায় আছে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবার নামও। এমবাপ্পের শরীরে হাত রাখা বা কোনো এক প্রসঙ্গে তাকে স্পর্শ করার যে ধৃষ্টতা আলাবা দেখিয়েছিলেন, তা এমবাপ্পে মোটেও সহজভাবে নেননি। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে হেডলাইন হয়ে আসে – চলতি গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় শেষ হতে চলেছে ডেভিড আলাবার।

এই ঘটনাগুলো কি নিছকই কাকতালীয় কোনো সমাপতন, নাকি পর্দার আড়ালে চলা কোনো ক্ষমতার দাবার চাল – তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। তবে আধুনিক ফুটবলে কিলিয়ান এমবাপ্পে যে কেবল একজন গোলমেশিন নন, বরং মাঠ এবং মাঠের বাইরে এক বিশাল প্রভাবের নাম, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link