সোনালী ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশনে ফরাসি সেনাবহর গুছিয়ে নিলেন দিদিয়ের দেশম। গত দুইবারের ফাইনালিস্টদের এবারের দল যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তারা কেবল জিততে নয়, প্রতিপক্ষকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে আসছে। ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা একবাক্যে মানছেন, এবারের আসরে ফ্রান্সই হতে যাচ্ছে ‘দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস সাইড’।
দেশমের এবারের স্কোয়াডটি যেন এক গোলমেশিন। সাধারণত দলগুলো ব্যালেন্সড মিডফিল্ড পছন্দ করলেও দেশম বাজি ধরেছেন নয় জন জাঁদরেল স্ট্রাইকারেএ ওপর! চেরকি, ডেম্বেলে, ওলিসে থেকে শুরু করে এমবাপ্পে। নি:সন্দেহে এই আক্রমণভাগ যেকোন দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে।
মিডফিল্ডে মাত্র পাঁচ জন খেলোয়াড় রেখে দেশম বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার দল মাঝমাঠ দখল করার চেয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ঝড় তুলতেই বেশি আগ্রহী।

মাঝমাঠে একমাত্র খাঁটি ক্রিয়েটিভ অপশন হিসেবে আছেন এসি মিলানের আদ্রিয়েন র্যাবিওট। তবে এখানেও দেশমের এক গভীর চাল আছে। প্রথাগত প্লে মেকার না রেখে তিনি চেরকি, ডেম্বেলে এবং ওলিসেদের মতো উইঙ্গারদের ওপর দায়িত্ব দিবেন নেমে খেলার। তাদের গতি আর ড্রিবলিংয়ের সমন্বয়ে মাঝমাঠ থেকে যে আক্রমণগুলো উঠবে, তা সামলানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য দু:স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।
মাঝমাঠের সুরক্ষায় ফিরে এসেছেন ২০১৮ এর সেই ক্লান্তিহীন যোদ্ধা এনগোলো কান্তে। তার অভিজ্ঞতা তরুণদের সাহস যোগাবে। তবে সবচেয়ে বড় খবর হলো, গত বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই আক্ষেপের নায়ক রান্ডাল কোলো মুয়ানির না থাকা। ১২৩ মিনিটে সেই ঐতিহাসিক গোলটি মিস করার যে ক্ষত নিয়ে তিনি দিন পার করছিলেন, সেই পাপমোচনের আর কোনো সুযোগ তাকে দেননি দেশম।
রক্ষণভাগে থাকছেন আর্সেনালের আকাশচুম্বী প্রাচীর উইলিয়াম সালিবা ও বায়ার্নের উপামেকানো। সালিবার সাথে ইব্রাহিমা কোনাটে এবং বার্সেলোনার জুলেস কুন্দে মিলে যে রক্ষণভাগ গড়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের জন্য পেনাল্টি বক্স যেন এক নিষিদ্ধ এলাকা।

দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্স টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। প্রধান কোচ হিসেবে নিজের শেষ এই মহাযজ্ঞে তিনি যে কোনো আপস করতে রাজি নন, তা স্কোয়াড গঠনই বলে দিচ্ছে। রক্ষণভাগে সালিবা-উপামেকানোর ইস্পাতের দেয়াল আর সামনে এমবাপ্পে-ডেম্বেলের বিধ্বংসী তলোয়ার। সব মিলিয়ে ফ্রান্স যেন এক অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধের সাজে সজ্জিত।











