২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রেকআউট স্টার কারা?

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই নতুন কোনো তারকার উত্থান। কেউ প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই চমকে দেন পুরো দুনিয়াকে, আবার কেউ নিজের পারফরম্যান্সে হয়ে ওঠেন আসরের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। প্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন কিছু তরুণ ফুটবলারের উত্থান ঘটে, যারা কয়েকটা ম্যাচের মধ্যেই জায়গা করে নেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও তেমন কয়েকজন উদীয়মান প্রতিভাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচনা ফুটবল দুনিয়াজুড়ে।

এই  তালিকায় অন্যতম আর্জেন্টিনার তরুন মিডফিল্ডার নিকো পজ। আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার পাবলো পাজের ছেলে নিকো স্পেনের ফুটবল পরিবেশে বড় হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করছেন আর্জেন্টিনাকে।

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন। দূরপাল্লার শট ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর।

ফ্রান্সের তরুন ফুটবলার ডিজাইয়ে দুয়েও আছেন সম্ভাবনাময়দের তালিকায়। পিএসজির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুন পারফরম্যান্স করে তিনি আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তার আত্মবিশ্বাসী ফুটবল অনেকের নজড় কাড়ে।

তবে ফ্রান্সের শক্তিশালী দলে জায়গা ধরে রাখা তাঁর জন্য সহজ হতে যাচ্ছেনা। দলটিতে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারা আছেন।

ইংল্যান্ডের নিকো ও’রাইলিকেরও আছে ভবিষ্যৎ  বড় তারকা হবার সম্ভাবনা। ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা ইতোমধ্যেই তাঁর বহুমুখী পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, “কী অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, সে অবিশ্বাস্যভাবে নিজেকে অনেক উন্নত করেছে এবং অনেক সময় খেলেছে, এটা তাঁর প্রাপ্য ছিল।”

অন্যদিকে রয়েছে দক্ষিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলিয়ান তরুণ এন্দ্রিক, যাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা। অল্প বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করা এই ফরোয়ার্ডকে অনেকেই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ তারকা বলে বিবেচনা করছেন। গোল করার ক্ষমতা ও আক্রমণভাগে তাঁর গতিময়তা দেখে অনেক বিশ্লেষকই তাঁকে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও ‘র সাথে তুলনা করছেন।

এছাড়া স্পেনের তরুণ পেদ্রিকেও ধরা হচ্ছে আগামী দিনের অন্যতম মিডফিল্ডার হিসেবে। নিজ দেশের ক্লাব বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে।  ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো এই তরুণদের মধ্য থেকেই কেউ হয়তো হয়ে উঠবেন ফুটবল বিশ্বের নতুন মহাতারকা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link