ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় রহস্য ছিল ১৯৭৮ বিশ্বকাপে জোহান ক্রুইফের অনুপস্থিতি। সেই সময়কার বিশ্বসেরা এই ফুটবলার কেন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে অংশ নিলেন না! তা নিয়ে গত তিন দশক ধরে চলেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলেছিলেন ডাচ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে আর্থিক বিবাদ। কেউ বা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক একনায়কতন্ত্রের প্রতিবাদে তিনি যাননি।
কিন্তু ৩০ বছর পর ২০০৮ সালে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ক্রুইফ নিজেই ফাঁস করেন এক লোমহর্ষক সত্য। যা কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং ছিল এক চরম ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি।
ক্রুইফ জানান, ১৯৭৭ সালের শেষের দিকে যখন তিনি বার্সেলোনায় বসবাস করছিলেন, তখন একদল সশস্ত্র অপরাধী তার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ক্রুইফ এবং তার স্ত্রী ড্যানি কোস্টারকে বেঁধে ফেলে। এমনকি তার সন্তানদের সামনেই ক্রুইফের মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। অপরাধীদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে ও তার পরিবারকে অপহরণ করা।

সৌভাগ্যবশত, ক্রুইফ সেই যাত্রায় কোনোমতে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন এবং অপহরণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু ঐ একটি রাত তার জীবন দর্শন চিরতরে বদলে দেয়।
সেই ঘটনার পর ক্রুইফের জীবন আর আগের মতো ছিল না। কয়েক মাস পর্যন্ত তাদের বাড়ি পুলিশের কড়া পাহারায় ছিল। তার সন্তানদের পুলিশি নিরাপত্তায় স্কুলে যেতে হতো এবং ক্রুইফ নিজেও বডিগার্ড ছাড়া মাঠে নামতে পারতেন না।
রেডিও কাতালুনিয়ার সেই সাক্ষাৎকারে ক্রুইফ বলেন, ‘এমন এক পরিস্থিতিতে পরিবারকে রেখে বিশ্বের অন্য প্রান্তে ফুটবল খেলতে যাওয়া অসম্ভব ছিল। বিশ্বকাপে খেলতে গেলে আপনাকে ২০০% মনযোগী হতে হয়। কিন্তু আমার মাথায় তখন শুধু পরিবারের নিরাপত্তা ঘুরছিল।’

ক্রুইফহীন নেদারল্যান্ডস ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ক্রুইফ মাঠে থাকলে ডাচরা সেদিনই তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারতো।
দীর্ঘ ৩০ বছর এই সত্যটি গোপন রেখেছিলেন ক্রুইফ। তিনি চাননি তার ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে অহেতুক আলোচনা হোক। তবে ২০০৮ সালে সত্য প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্ব বুঝতে পারে, মাঠের হিরো হলেও দিনশেষে পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় গোল।











