মেসি-রোনালদো, দুই সম্রাটের উপসংহার

আসন্ন বিশ্বকাপে আরও একবার দেখা যাবে আধুনিক ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে। উভয়েই তাঁদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে গড়তে যাচ্ছেন এক অনন্য ইতিহাস।

কাতার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যখন লিওনেল মেসির হাতে উঠল, সবাই ভেবেছিলেন এটাই হয়তো শেষ। অর্জনের খাতা পূর্ণ করে রাজকীয় বিদায় নেবেন এলএম-টেন। বয়সের ভারে বিদায় জানাতে হবে রোনালদোকেও। কিন্তু ফুটবল বিধাতা লিখে রেখেছিলেন অন্য এক চিত্রনাট্য। আসন্ন বিশ্বকাপে আরও একবার দেখা যাবে আধুনিক ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে। উভয়েই তাঁদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে গড়তে যাচ্ছেন এক অনন্য ইতিহাস।

গত বছর মিয়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর মাধ্যমে মেসি প্রমাণ করেছেন তাঁর বর্তমান সামর্থ্য। ২০২৪ এর কোপা আমেরিকা জয় এবং দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তাঁর ফর্মেরই বহিঃপ্রকাশ। ৩৯ বছর বয়সে পা রাখতে যাওয়া এই আর্জেন্টাইন জাদুকর এখনো আলবিসেলেস্তেদের মূল কান্ডারি।

মেসির সামনে এখন রেকর্ডের নতুন দিগন্ত। আর মাত্র দুটি ম্যাচ খেললেই তিনি স্পর্শ করবেন ২০০ আন্তর্জাতিক ক্যাপের মাইলফলক। বর্তমানে তাঁর ঝুলিতে আছে ১৩টি বিশ্বকাপ গোল। গ্রুপ পর্বে ভালো করতে পারলে তিনি অনায়াসেই মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারেন।

অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লক্ষ্যটা একটু ভিন্ন। তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য ট্রফি থাকলেও বিশ্বকাপের সেই সোনালী ছোঁয়া এখনো অধরা। ২০০৬ সালের পর বিশ্বকাপ নকআউটে পর্তুগালের পারফরম্যান্স খুব একটা উজ্জ্বল নয়, তবুও রোনালদোর অদম্য স্পৃহা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আর এবার তারকায় ঠাসা ভিন্ন এক পর্তুগাল আসর শুরুর আগেই অন্যতম হট ফেভারিট।

রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে রোনালদো এখনো পর্তুগাল দলের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার। ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি ইতোমধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ ক্যাপধারী পুরুষ ফুটবলার। আল নাসেরের হয়ে সৌদি লিগ জয়ের পথে থাকা এই তারকা নিশ্চিত করেছেন, এটাই হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ মিশন।

ফুটবল বিশ্ব জানে, এমন দ্বৈরথ আর হয়তো কখনো দেখা যাবে না। বিশ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই দুই নক্ষত্র যখন উত্তর আমেরিকার গ্যালারি মাতাবেন, তখন তা কেবল খেলা থাকবে না। হয়ে উঠবে একটি প্রজন্মের আবেগের বিদায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link